
X
নিহত আবু কায়সার
চট্টগ্রাম মহানগরের সাগরিকা ফ্লাইওভারে ঝুলন্ত অবস্থায় আবু কায়সার (২৭) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। কায়সার আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাটিকে হত্যা বলে অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর বিএসআরএম ডিপো সংলগ্ন ফ্লাইওভার থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। কায়সারের বাসা নগরীর পশ্চিম ফিরোজশাহ এলাকায়।
বিএসআরএম কারখানায় অস্থায়ী সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন এই তরুণ। স্বজন ও সহকর্মীদের দাবি, তিনি প্রচণ্ড মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন।
পাহাড়তলী থানার ওসি নুরুল আবছার জানান, কায়সার ফিরোজশাহ কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তারা তিন ভাই। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ মায়ের কাছে হস্তান্তর করার পর মঙ্গলবারই তাকে দাফন করা হয়।
ওসি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এতে দেখা গেছে ওই তরুণ ফ্লাইওভারে একা একা হেঁটে গিয়ে গলায় ফাঁস দেন। তাছাড়া তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও ছিল না। তাকে মেরে ঝুলিয়ে দেয়ার অভিযোগ সত্যি নয়।’
কায়সারের স্বজন ও সহকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন পিতৃহীন এই তরুণ। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি নানামুখী চাপে পড়েন। দরিদ্র পরিবারের চাপ সামলাতে গিয়ে অস্থায়ী সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিতে বাধ্য হন।
কায়সারের ছোট ভাই বলেন, ‘কায়সার পাহাড়তলী কলেজ থেকে ইন্টার পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। মায়ের দীর্ঘদিনের অসুস্থতাসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক তার ভালো যাচ্ছিল না। এর আগে ভালো স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পরেও ভালো কলেজে পড়তে না পারায় হতাশ ছিলেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি মানসিকভাবে আরো ভেঙে পড়েন।’
কাউসারের সহকর্মী আরেক সিকিউরিটি গার্ড রাকিব হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে কায়সার মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিধ্বস্ত ছিলেন। এ কারণে গভীর রাতে হয়ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মীদের মাঝে শোক নেমে এসেছে।’
ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছেন, কায়সারকে হত্যার পর ফ্লাইওভারে লাশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শেখ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা অসহায় অবস্থায় আছেন। আমাদের নেতারাও তাদের খবর রাখেননি। এমন অবস্থায় কায়সারের মৃত্যু আমাদের সবাইকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য লজ্জার, কষ্টের ও দুঃখের।’