ভোলায় প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

ভোলা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ভোলায় অতিবৃষ্টিতে রবি শস্য ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহুর্তে ক্ষেতে পানি জমে ভোলা জেলার ২৩ হাজার ৩৭৩

2026-05-16T16:55:55+00:00
2026-05-16T16:55:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ভোলায় প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৪:৫৫ পিএম   (ভিজিট : ৯৯)
ভোলায় প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি, দিশেহারা  কৃষক
X

ভোলায় প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

ভোলায়  অতিবৃষ্টিতে রবি শস্য ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগ মুহুর্তে ক্ষেতে পানি জমে ভোলা জেলার ২৩ হাজার ৩৭৩ জন কৃষকের ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে তাদের উৎপাদিত তিনভাগের দুইভাগ ফসল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপকূলীয় ভোলা জেলার হতদরিদ্র ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। 

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে,অতিবৃষ্টিতে ভোলায় কৃষকদের ১ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ২৬৫ হেক্টরের সয়াবিন,৬৯৫ হেক্টরের  চিনাবাদাম,১৫০ হেক্টরের মুগডাল,৩৫ হেক্টরের ফেলন ডাল,৬৮ হেক্টর শাকসবজি ও ১০০ হেক্টরে কাচামরিচ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, এবং শস্যের ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া,আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন রবি শস্যের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, চলতি মে মাসে রবি শস্যের মাঠগুলো শুকনো থাকার কথা থাকলেও হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে প্রতিটি মাঠের সয়াবিন,চিনাবাদাম,ফেলন,মুগডালসহ অন্যান্য ফসল  জলাবদ্ধতায় ডুবে আছে। এবং প্রতিটি ক্ষেতের অধিকাংশ শস্য এবং গাছ পানিতে ডুবে পঁচে রয়েছে,অবশিষ্ট ফসলটুকু কেউ কেউ কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন,আবার কেউ কেউ রাগে-ক্ষোভে ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল তুলতেও চাচ্ছেন না। 

কৃষক জালাল মিয়া জানান,মূলত বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল কাটা পর্যন্ত রবি শস্যের জন্য  পরিবেশ হচ্ছে শুকনো ক্ষেত। অর্থাৎ ক্ষেতে জলাবদ্ধতা মানেই কৃষকদের ভাগ্যডুবি। 

কৃষক দুলাল পাটোয়ারী দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ধারদেনা করে ৬ গন্ডা জমিতে (৮৪ শতাংশ) সয়াবিনের আবাদ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু অতিবৃষ্টির কারনে মুহুর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। আশা ছিল মে মাসের মাঝামাঝিতে ফসল ঘরে তুলবো, অতিবৃষ্টিতে আমার ৬ গন্ডা জমির সয়াবিনের মধ্যে ৪ গন্ডার সয়াবিন ক্ষেতেই পুরোপুরি পঁচে গেছে। বাকি দুই গন্ডাতেও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। 

আমার প্রায় ১ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষেতেই পঁচে গেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন করলে শ্রমিকের খরচ ও উঠবে না,তাই ক্ষেতেই ফেলে রেখেছি।

কৃষক মো.মাকসুদ বলেন,সয়াবিনের গাছ যখন বড় হয়ে ফলন ধরতে শুরু করলো তখন ব্যাপক খুশি হয়েছি। ১৬ গন্ডার সয়াবিনের মধ্যে প্রায় ১০ গন্ডার সয়াবিন পুরোপুরি পঁচে গেছে। ক্ষেতে প্রায় ১ ফুটের মতো পানি জমে আছে। সয়াবিন গাছ মূলত প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর গাছের গোড়াতেই সবচেয়ে বেশি ফলন হয়,উপরের দিকে একেবারে কম হয়। পানির কারণে গাছের গোঁড়ায় থাকা সব সয়াবিনের থোঁকা পঁচে গেছে। 

কৃষক মো: শাজাহান বলেন, আমার  ক্ষেতের অবশিষ্ট ফসল কর্তন করতে গিয়েও বিপদে পড়েছি। একজন শ্রমিকের সবমিলিয়ে দৈনিক বেতন ৮০০-১ হাজার টাকা,অথচ একজন শ্রমিক তার বেতনের সমান সয়াবিন ও কর্তন করতে পারছেন না,ক্ষেতে সয়াবিন নেই,কী করবো। দেনা শোধ করবো কিভাবে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড.শামীম আহমেদ বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ার কারনে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কাজ করছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy