প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ১১:১৯ এএম আপডেট: ১৭.০৫.২০২৬ ১১:২৩ এএম (ভিজিট : ৪৮)

X
শ্রীপুরে বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষাণীরা
সোনালী ফসল ঘরে তোলার আনন্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা। ভোর থেকে ধান সেদ্ধ, শুকানো ও সংরক্ষণের কাজে নিরলস পরিশ্রম করছেন গ্রামীণ নারীরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই কর্মযজ্ঞে ক্লান্তির কোনো ছাপ নেই তাদের চোখে-মুখে। নিজেদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার আনন্দই যেন ভুলিয়ে দিচ্ছে সব ক্লান্তি।
সময়ের পরিবর্তনে বদলে গেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ধান শুকানোর চিত্র। একসময় সমতল জমির ঘাস পরিষ্কার করে, গোবর ও মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি হতো ‘খলা’। এখন আর সেই খলা খুব একটা চোখে পড়ে না। বর্তমানে বড় মাঠ কিংবা বাড়ির আঙিনায় চট বা ত্রিপল বিছিয়ে ধান শুকানো হচ্ছে। এতে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি এলেও দ্রুত ধান গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া সম্ভব হয়।
শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গৃহবধূরা বড় হাঁড়িতে ধান সেদ্ধ করছেন। কেউ রোদে ধান মেলে দিচ্ছেন, কেউবা তা উল্টে-পাল্টে দিচ্ছেন। এই কাজে নারীদের সহযোগিতা করছেন পরিবারের পুরুষ সদস্যরাও।
ডোয়াইবাড়ি গ্রামের কৃষাণী মাজেদা জানান, এবার তারা তিন বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। গত বছরের তুলনায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, "আকাশের অবস্থা ভালো। আশা করছি আজ সারাদিনেই ধান শুকিয়ে যাবে। পরে মিলে ভাঙিয়ে চাল করে রাখব। এতে আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত আমাদের আর চালের চিন্তা থাকবে না।"
শ্রীপুর পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে কথা হয় আরেক কৃষাণী আসমা আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, "ভোর থেকে ধান সেদ্ধ করে মাঠে শুকাতে দিয়েছি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি হলেও নিজের ঘরের ফসল তোলার আনন্দই আলাদা।"
স্থানীয় কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, "শ্রম আর ঘামের বিনিময়ে উৎপাদিত এই ধানই আমাদের বছরের প্রধান খাদ্যভাণ্ডার। তাই কষ্ট হলেও পরিবারের সবাই মিলে ফসল ঘরে তোলার এই উৎসব আমরা আনন্দের সাথে উদ্যাপন করি।"