প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ১২:০০ পিএম (ভিজিট : ১০৭)

X
ফাইল ছবি
নড়াইল জেলার অন্যান্য এলাকায় চাষিরা আশানুরূপ সাফল্য না পেলেও সদরের পংকবিলা গ্রামের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই গ্রামের লিচু চাষের ইতিহাস শত বছরের। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানকার কৃষকরা ঐতিহ্যগতভাবে লিচু চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমেও ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে।
বিষমুক্ত ও অর্গানিক লিচু উৎপাদনের জন্য পংকবিলার আলাদা সুনাম রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখানকার রসালো লিচু এখন যাচ্ছে দেশের অন্তত ২০টি জেলায়। দীর্ঘদিন ধরে ‘লিচুর গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় প্রতি মৌসুমে প্রায় দুই কোটি টাকার লিচু কেনাবেচা হয়। পংকবিলার এই সাফল্য দেখে এখন আশপাশের গ্রামের কৃষকরাও লিচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
নড়াইল শহরের অপর প্রান্তে চিত্রা নদীর তীরঘেঁষে অবস্থিত এই গ্রামের দূরত্ব শহর থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার। লিচুর মৌসুম শুরু হতেই ব্যবসায়ী ও চাষিদের আনাগোনায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কাকডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে কর্মযজ্ঞ— কেউ গাছের মগডালে বসে লিচু পাড়ছেন, কেউ বাছাই করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত গোনার পর প্যাকিং করতে।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত ১০ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে। শতভাগ অর্গানিক এই লিচু নড়াইল ছাড়াও যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, চট্টগ্রাম এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় খুচরা বাজারে ১০০টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা দরে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (ডিডি) কৃষিবিদ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “পংকবিলা গ্রামটি অনেক আগেই লিচুর গ্রাম নামে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানকার সফলতা দেখে আশপাশের গ্রামগুলোতেও চাষ ছড়াচ্ছে। আশা করা যায়, আগামীতে এই অঞ্চলে লিচুর আবাদ আরও বাড়বে।”
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পংকবিলায় বাণিজ্যিকভাবে ৪২ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এখানে সাধারণত দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই, মোজাফফর ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু চাষ হয়। চলতি মৌসুমে এসব বাগান থেকে ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা।