আমতলীতে জরাজীর্ণ ভবনে ভবিষ্যৎ গড়ার অনিশ্চিত পাঠশালা

রাশিমুল হক রিমন, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বিদ্যালয় ভবনের বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। বৃষ্টি হলেই

2026-05-20T13:13:33+00:00
2026-05-20T13:13:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আমতলীতে জরাজীর্ণ ভবনে ভবিষ্যৎ গড়ার অনিশ্চিত পাঠশালা
রাশিমুল হক রিমন, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১:১৩ পিএম   (ভিজিট : ৪১)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

বিদ্যালয় ভবনের বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের গায়েও খসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। 

কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে পাঠদান। 

এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি ভবন। দীর্ঘ ৬০ বছরেও ভবনগুলোর বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আমতলী শহরের প্রাণকেন্দ্রে থানা সড়কের পাশে শিক্ষানুরাগী সাবেক এমএলএ (এমপি) মরহুম মফিজ উদ্দিন তালুকদার ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৬৬ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল ভবনে বর্তমানে একটি হলরুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। ছাদের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা ধসে পড়েছে। অধিকাংশ দরজা-জানালা ভাঙা ও নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।

মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে ১৯৭২ সালে নির্মিত দুই কক্ষের একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভবনটিতে তালা ঝুলছে। পাশের দোতলা টিনশেড বিজ্ঞানাগারটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ায় বিজ্ঞানাগারের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯৮৭ সালে নির্মিত তিন কক্ষের একটি ভবন, ২০০৪ সালে নির্মিত দুই কক্ষের আরেকটি ভবন এবং ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা পাঁচ কক্ষের ভবনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। দরজা-জানালা খুলে গেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা ভবনটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবনের দোতলায় উঠতে চায় না।

প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর জন্য বরাদ্দ দুটি টিনশেড ঘরও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা নিজেদের উদ্যোগে কোনো রকম মেরামত করে সেখানে বসবাস করলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই গেছে।

বিদ্যালয়টির চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে অবাধে গবাদিপশু বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে বিদ্যালয় মাঠে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে। শহরের প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও সুমাইয়া শিমু বলে, ভবনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাইরা বলে, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা ও পোশাক ভিজে যায়। ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবীর বলেন, ছয়টি ভবনই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy