
X
মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রায়
অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত আশির দশকের শেষ প্রান্ত থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বলিউডে ‘রাজত্ব’ করে গেছেন। সৌন্দর্য আর অনবদ্য অভিনয় দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার সফল সিনেমারগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘দেবদাস’। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ব্লকবাস্টার এই সিনেমার শুটিংয়ের সময় মাধুরী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। তার পরও চালিয়ে নিয়েছেন শুটিং।
‘দেবদাস’ সিনেমার ‘দোলা রে দোলা’ গানের শুটিং ঘিরে সামনে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জানা গেছে, মাধুরী তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এমন অবস্থায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিহার্সাল ও শুটিং করেন তিনি।
গানটিতে মাধুরীর সঙ্গে ছিলেন ঐশ্বরিয়া রায়। ছবিটি পরিচালনা করেন সঞ্জয় লীলা বানসালি। বিশাল সেট, জমকালো পোশাক ও কঠিন নাচের সমন্বয়ে তৈরি এই গান আজও দর্শক হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে আছে।
বলিউড ঠিকানাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রয়াত কোরিওগ্রাফার সরজ খানের দীর্ঘদিনের সহকারী রুবিনা খান গানটির পেছনের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেবদাস সিনেমার ‘দোলা রে দোলা’ গানের শুটিং করতে লেগেছে ১৭ দিন। প্রায় এক মাস হয়েছে আলাদা রিহার্সাল।
রুবিনা বলেন, ‘মাধুরী তখন চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। জ্বরও ছিল। গানটির একটি কঠিন স্টেপে মাধুরীকে ঘুরে বসে পড়তে হতো। সেই একটি দৃশ্য ঠিকভাবে ধারণ করতেই প্রায় ১৩ ঘণ্টা লেগে যায়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কারণে সেই দৃশ্য করতে গিয়ে বারবার মাথা ঘুরছিল তার। কিন্তু তিনি কখনও অভিযোগ করেননি বা স্টেপ পরিবর্তনের কথা বলেননি।’
রুবিনা আরও বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের অনেক শিল্পী কঠিন স্টেপ নিয়ে আপত্তি জানালেও মাধুরী কখনও তা করতেন না। বরং যেভাবেই হোক নির্ধারিত কোরিওগ্রাফি নিখুঁতভাবে শেষ করার চেষ্টা করতেন।’ শুধু মাধুরী নন, শুটিংয়ের সময় অসুস্থ ছিলেন সরজ খান নিজেও। নির্মাতা সঞ্জয় লীলা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের মধ্যে মেঝেতে শুয়ে শুয়ে নির্দেশনা দিতেন সরজ।
স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, ‘দেবদাস মুক্তির দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন সরোজ খান। আধা-চেতন অবস্থাতেও জানতে চেয়েছিলেন, ‘দোলা রে দোলা’তে দর্শকর টাকা ছুড়েছে কিনা। কাজের প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠার বড় উদাহরণ এটি।’ ‘দোলা রে দোলা’ গানটির পেছনে মাধুরী, শাহরুখ, ঐশ্বরিয়া, সরজ ও সঞ্জয়সহ পুরো টিমের কঠোর পরিশ্রম, শারীরিক কষ্ট ও পেশাদারিত্বের কথা বলিউডে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। আর কাজের প্রতি নিষ্ঠার জন্য বলিউডে এখনও আগের মতোই প্রাসঙ্গিক মাধুরী।
ব্যাক্তিজীবনে এই নায়িকা একজন তারকা ক্রিকেটারে মুগ্ধ ছিলেন। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কেও জড়িয়েছিলেন। সেই ক্রিকেটারের নাম অজয় জাদেজা। ৮ বছরের ক্যারিয়ার ছিল জাদেজার। ভারতের জার্সি গায়ে ১৯৬টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন তিনি। দলটির অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন।
সেই অজয় জাদেজার সঙ্গেই প্রেম করেছেন মাধুরী। ক্যারিয়ারে দূর্দান্ত ফর্মে থাকা সময় মাধুরীর সঙ্গে জড়িয়েছিল এই ক্রিকেটারের নাম। একটি পত্রিকার ফটোশুটে গিয়েই নাকি সম্পর্কে জড়ান দু’জন। এরপর দীর্ঘদিন চলে সেই প্রেম। শোনা যায়, অজয় জাদেজার খেলার ভক্ত ছিলেন মাধুরী। তার আগে অবশ্য অনিল কাপুর, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গেও নায়িকার প্রেমের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।
তবে জাদেজাতেই ডুবে ছিলেন তিনি। তবে মাধুরীর সঙ্গে প্রেমে নাকি জাদেজার পরিবার বিরোধী ছিল। তারা কোনোভাবেই চাননি, ছেলে কোনো নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াক। এমনকি মাধুরী-জাদেজার প্রেম যতো এগিয়েছে ততোই ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স তলানিতে নেমেছে। যেই দায় একটা সময় মাধুরীকে দিচ্ছিল তার পরিবার।
এছাড়াও সাধারণ মারাঠি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে হওয়ায় মাধুরীকে পুত্রবধূ হিসেবে পছন্দ ছিল না জাদেজা পরিবারের। একটা সময় ক্রিকেট থেকে জাদেজার নির্বাসনের কারণে ভেঙে যায় এই দুই তারকার প্রেম। জাদেজার ক্রিকেট ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হয়ে যায় নিষেধাজ্ঞার কোপে। ম্যাচ পাতানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ২০০০ সালে ৫ বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট নির্বাসিত হন এই তারকা। এরপর আর ক্রিকেটে ফিরতে পারেননি।
এদিকে জাদেজার সঙ্গে প্রেমে বিচ্ছেদের পর ডাক্তার রাম নেনেকে বিয়ে করে আমেরিকায় পাড়ি জমান মাধুরী। অন্যদিকে ২০০১ সালের ৩০ মার্চ ভারতনাট্যম শিল্পী অদিতি জেটলিকে বিয়ে করেন জাদেজা।