
X
সাতক্ষীরায় জাতীয় বাজেটে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দের দাবি
আসন্ন জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ)।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপকূলের জলবায়ু সংকট, পরিবেশগত ঝুঁকি ও মানুষের জীবন-জীবিকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মাধব দত্ত। স্বাগত বক্তব্য দেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের প্রধান সংগঠক ও সাংবাদিক নেতা শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ, বিভিন্ন নাগরিক নেতা, পরিবেশকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীর মতো জেলাগুলো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, পানি সংকট ও ভূমি অবক্ষয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে কৃষিজমি ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হামিদ বলেন, গত দুই দশকে সিডর, আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। লবণাক্ততার বিস্তার কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। নিরাপদ সুপেয় পানির সংকট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবিকার অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে। একইসঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির হারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূল রক্ষায় অবিলম্বে ‘উপকূল উন্নয়ন বোর্ড’ গঠন, উপকূলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা এবং জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী-খাল ড্রেজিং, নিরাপদ পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া উপকূলীয় মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো, দুর্যোগ সহনশীল আবাসন নির্মাণ, সাইক্লোন শেল্টার সংস্কার, উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার এবং সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য জীবনবীমা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার দাবিও তুলে ধরা হয়।
মাধব দত্ত বলেন, উপকূলীয় অঞ্চল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ জাতীয় বাজেটে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই উপকূলের মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন লিডার্সের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার বিপাশা অধিকারী, মিল অফিসার জয়দেব কুমার জোদ্দারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।