
X
ছবি: প্রতিনিধি
ঈদকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন নকল জুস, জেলি, লিকুইড দই এবং বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরির কারখানা।
প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে অনুমোদনহীন ও নকল শিশু খাদ্য তৈরির কারখানার মালিক মজনু হোসেন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ইতিপূর্বে কারখানাটিতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এলাকাবাসী ও হাসান মাহমুদের সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চকবাজার থেকে বিভিন্ন নামিদামি অনুমোদিত কোম্পানির লেবেল বা ব্যাচ ব্যবহার করে ভেড়ামারার সাতবাড়ীয়া এলাকায় কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু খাদ্য তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
অনুমোদনহীন ও নকল পদ্ধতিতে জুস, জেলি এবং চকলেটজাতীয় শিশু খাদ্য তৈরির মূল হোতা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া এলাকার রেজাউল করিমের ছেলে মজনু হোসেন। ঈদকে সামনে রেখে তিনি তার কারখানাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। কারখানার মালিক মজনু হোসেনের কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, ভেজাল শিশুখাদ্য তৈরি করে কীভাবে বারবার স্বল্প পরিমাণ জরিমানা দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন তিনি? তদবিরকারীরা কিসের স্বার্থে জেল-জরিমানা কমানোর সুপারিশ করছেন, তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
কারখানার মালিক মজনু হোসেন বলেন, “লাইসেন্স ও কাগজপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ইতিপূর্বে আমার কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।”
বিএসটিআই পরিদর্শক আসিফ করিম বলেন, “ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া এলাকার মজনু হোসেনের অনুমোদনহীন ও নকল শিশু খাদ্য তৈরির কারখানাটি লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে।
কারখানার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। তারপরও তিনি অনুমোদনহীন নকল জুস, জেলি, লিকুইড দই এবং বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরি করে আসছেন।”
ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, “ভেড়ামারায় অনুমোদনহীন ও নকল জুস, জেলি, লিকুইড দই এবং বিভিন্ন ধরনের শিশু খাদ্য তৈরির একটি কারখানার মালিক মজনু হোসেনকে ইতিপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন শিশু খাদ্য ও তৈরির কাঁচামাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। জব্দকৃত মালামাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়েছে। শিগগিরই আবার অভিযান চালানো হবে।”