গরম বাড়তেই শ্রীপুরে তালশাঁসের কদর

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

তীব্র গরমে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় বেড়েছে

2026-06-09T13:00:27+00:00
2026-06-09T13:00:27+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গরম বাড়তেই শ্রীপুরে তালশাঁসের কদর
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:০০ পিএম   (ভিজিট : ৭৩)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

তীব্র গরমে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস করছে, ঠিক তখনই গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় বেড়েছে মৌসুমি ফল তালশাঁসের কদর। 
কেউ বলেন তালশাঁস, কেউ তালের চোখ, আবার অনেক এলাকায় এটি পরিচিত আশাড়ি বা পানি তাল নামে। নাম ভিন্ন হলেও গরমে প্রশান্তি পেতে সাধারণ মানুষের কাছে এই ফল এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

শ্রীপুর পৌর শহর, মাওনা চৌরাস্তা, শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন, জৈনাবাজার, কেওয়া পশ্চিমখণ্ড, বরমী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতের সামনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভ্যানগাড়ি ও অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হচ্ছে তালশাঁস। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, পরিবহন চালক ও চাকরিজীবীদের অনেকেই ভিড় করছেন তালশাঁস কিনতে।

স্থানীয় বিক্রেতারা জানান, মূলত উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা  কাঁচা তাল কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন।

শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তালশাঁস বিক্রেতা আপেল মিয়া (৪০) বলেন, আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি কাঁচা তাল কিনে আনি। প্রতিটি তালের আকার অনুযায়ী পাইকারি দাম পড়ে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। পরে কেটে ভেতরের শাঁস বের করে ২০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করি। বড় তাল হলে একটাতে তিনটা পর্যন্ত শাঁস পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমটাই আমাদের আয়ের প্রধান সময়। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে দিনে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে। এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। গরম যত বাড়ছে, বিক্রিও তত বাড়ছে।

মাওনা চৌরাস্তার আরেক বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলেন, একেকদিন ৪০০ থেকে ৫০০টি তাল কাটি। তাল কিনতে, গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচ সহ নানা খরচ আছে। তারপরও ভালো বিক্রি হলে লাভ থাকে। অনেকে শুধু তালশাঁস খেতেই দূর থেকে আসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্রেতারা ধারালো দা দিয়ে তাল কেটে ভেতরের স্বচ্ছ ও নরম শাঁস বের করছেন। কেউ সঙ্গে সঙ্গে খাচ্ছেন, কেউ আবার পরিবারের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে দুপুর ও বিকেলের দিকে ক্রেতাদের চাপ বেশি দেখা যায়।

ফয়সাল নামে এক ক্রেতা বলেন, বর্তমানে বাজারের অনেক ফলে কেমিক্যাল বা ফরমালিনের ভয় থাকে। কিন্তু তালশাঁসে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই। এটি খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে, তৃষ্ণা কমে এবং ক্লান্তিও দূর হয়। তাই গরমে নিয়মিত তালশাঁস খাই।

শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই তালশাঁস খেতে আসি। গরমে এটা খেলে খুব আরাম লাগে।


পুষ্টিবিদদের মতে, তালশাঁসে প্রচুর পানি, প্রাকৃতিক শর্করা, ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। সহজপাচ্য হওয়ায় গরমে এটি শরীরকে সতেজ রাখে এবং প্রশান্তি এনে দেয়।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে জৈষ্ঠ্যের শেষ পর্যন্ত তালশাঁসের মৌসুম থাকে। এই অল্প সময়ের ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই অনেক নিম্নআয়ের পরিবার বছরের একটি বড় সময়ের সংসার খরচ চালান।

তীব্র দাবদাহে যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, তখন শ্রীপুরের মানুষের কাছে তালশাঁস হয়ে উঠেছে স্বস্তি, প্রশান্তি ও মৌসুমি জীবিকার এক নির্ভরতার নাম।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy