
X
গুরুদাসপুরে নিম্নমানের উপকরণে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ এলাকাবাসীর
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভায় ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা ব্যয়ে দুটি রাস্তা সংস্কারসহ জিয়া খালের রাস্তা-ড্রেন নির্মাণ ও আলোকসজ্জা কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়। এরমধ্যে চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া ও আনন্দ নগরে রাস্তা সংস্কার কাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অফিস সুত্রে জানা যায়,বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত রিজিলিয়েন্ট আরবান এ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় গুরুদাসপুর পৌরসভায় এক প্যাকেজে দুইটি কার্পেটিং রাস্তা, আরসিসি ড্রেন, সড়ক বাতি ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ ৫টি কাজের ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭১ টাকা বরাদ্দে টেন্ডার আহবান করা হয়। এতে সিনথিয়া-আলামিন-আনিসুর (জয়েন ভেঞ্চার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজ পান।
প্রথমে দুইটি কার্পেটিং রাস্তার কাজ শুরু করা হয়েছে। একটি পৌরসভার আনন্দ নগর মহল্লার চাঁচকৈড় ওভার ব্রীজ থেকে খুবজীপুর অভিমুখে পৌরসিমানা পর্যন্ত। অন্যটি চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় হতে তাড়াশিয়া পাড়া পৌর সীমানা পর্যন্ত।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় নিম্ন মানের খোয়ার আস্তরান বিছিয়ে তাতে পানি দিয়ে রোলিং করে রাখা হয়েছে। উপজেলার এলাহীর মোড়ে স্তুপ করে রাখা অব্যবহৃত উপকরণের ছবি তুলতে গেলে বেশ ক’জন এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এমন খারাপ উপকরণ দিয়ে কাজ করলে টিকবে ক’দিন?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া দুখা ফকিরের মোড় হতে তাড়াশিয়াপাড়া পৌর সীমানা পর্যন্ত ২ হাজার ২৫ মিটার দৈর্ঘের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি টেকসই ও আধুনিকায়নের জন্য বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ দেয়। স্থানীয়দের দাবি,সড়কটির নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট,বালি,খোয়া ব্যহারের করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিন পর অবহেলীত এ সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদার দরপত্র অনুসারে ইট,বালী,খোয়া ব্যবহার না করে আমাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন। এতে রাস্তার স্থায়ীত্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে?
ইতোমধ্যে এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৌর কতৃপক্ষ নির্মান কাজ বন্ধ করে নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নিতে সময় বেধে দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছে।
কাজ বন্ধ ও কর্তৃপক্ষের চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা জানান, কোন অনিয়ম বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হচ্ছে না। খোয়ার সাথে ১০% বালি, ছোট খোয়া মিশ্রণ করে পানি দিয়ে ভিজিয়ে বেডে দিতে হচ্ছে। এটা একটা নতুন ডিজাইন। যার কারনে স্থানীয়দের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।
গুরুদাসপুর পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজের মান নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। দরপত্রের বাইরে বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। কাজ বুঝে নিতে সার্বক্ষনিক নজরদারী রয়েছে।