
X
শিক্ষকের রাজকীয় বিদায়
সখীপুরে বিদায়ী শিক্ষককে ছাদখোলা গাড়িতে রাজকীয় বিদায় দিলেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। প্রায় ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানেন টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিয়ান উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হালিম মিয়া। এ উপলক্ষে রাজকীয় বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিদায় সংবর্ধনা শেষে ছাদখোলা জিপে তুলে রাজকীয়ভাবে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে মোটরসাইকেলের বহর।
মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে উপজেলার শালগ্রামপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে পৌঁছেন আব্দুল হালিম মিয়া। বিদ্যালয় থেকে তাঁর বাড়ির দূরত্ব প্রায় চার কিলোমিটার।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হালিম মিয়া ১৯৮৯ সালে কালিয়ান উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একই প্রতিষ্ঠানে সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে গত ৩১ মে ছিল তাঁর চাকুরির শেষ কর্মদিবস।
প্রিয় শিক্ষক আব্দুল হালিমের বিদায়ের সময় অনেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, আব্দুল হালিম টানা ৩৬ বছর এই বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন দক্ষ শিক্ষকই নন। একজন সৎ, মানবিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবেও সবার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন।
বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে পাঠদানের মাধ্যমে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। বিদ্যালয়ের সুনাম ও সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আব্দুল হালিম স্যার আমাদের জীববিজ্ঞান পড়াতেন। তিনি অত্যন্ত সহজ,সরল ও সাবলীলভাবে পাঠদান করতেন। তাঁর ক্লাস আমরা আগ্রহ নিয়ে করতাম। স্যারের কাছ থেকে শুধু পড়াশোনা নয়, মানবিক মূল্যবোধও শিখেছি।’
আজ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি ফজলুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান, কাউলজানি নওশেরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন, সাবেক শিক্ষক ওমর আলী, মোতাহের আলী ভূঁইয়া, বর্তমান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, বিদায়ী শিক্ষকের ভাই হায়দার আলীসহ অন্যরা।
আব্দুল হালিম মিয়া বলেন, বিদ্যালয় আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছে , তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি মনে করি এটি আমার জীবনের স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। বিদ্যালয়, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের এই ভালোবাসা আমি আজীবন মনে রাখব।’