জননন্দিত চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদ

মো. নুরুল হক

বিনোদন

বুলবুল আহমেদ। চিত্রনায়ক-পরিচালক-প্রযোজক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম সুদর্শন, জননন্দিত চিত্রনায়ক ছিলেন বুলবুল আহমেদ। অসামান্য অভিনয় প্রতিভার অধিকারী, সুশিক্ষিত-পরিমার্জিত রুচিশীল ও সৃজনশীল এক অভিনেতা। ভিন্নমাত্রার অভিনয় দক্ষতায় অন্যরকম এক নায়কোচিত ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন রূপালী পর্দায়।

2026-07-15T11:56:06+00:00
2026-07-15T11:56:06+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ
জননন্দিত চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদ
মো. নুরুল হক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম   (ভিজিট : ৬৮)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

বুলবুল আহমেদ। চিত্রনায়ক-পরিচালক-প্রযোজক। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অন্যতম সুদর্শন, জননন্দিত চিত্রনায়ক ছিলেন বুলবুল আহমেদ। অসামান্য অভিনয় প্রতিভার অধিকারী, সুশিক্ষিত-পরিমার্জিত রুচিশীল ও সৃজনশীল এক অভিনেতা। ভিন্নমাত্রার অভিনয় দক্ষতায় অন্যরকম এক নায়কোচিত ইমেজ গড়ে তুলেছিলেন রূপালী পর্দায়।

ক্ল্যাসিক বা রোমান্টিক সব ধরণের চলচ্চিত্রে অনবদ্য সাবলীল অভিনয় দক্ষতায় তিনি ছিলেন স্বাছন্দ। সিনেমাদর্শকদের অতিপ্রিয় ‘দেবদাস’-‘মহানায়ক’-‘ভালোমানুষ’ বুলবুল আহমেদ। প্রখ্যাত এই অভিনেতার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের ১৫ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন এই মহাতারকা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।

বুলবুল আহমেদের আসল নাম তাবারক আহমেদ, পিতামাতা তাকে ‘বুলবুল’ বলে ডাকতেন। পিতা খলিল আহমেদ ছিলেন পাকিস্তান আমলের অর্থ বিভাগের ডেপুটি সেক্রেটারি এবং অভিনেতা-নাট্যকার। মায়ের নাম মোসাম্মত মোসলেমা বেগম। অনেক সময় তাদের বাড়িতে নাটকের মহড়া হত। কিশোর বুলবুল প্রায়ই সেই মহড়া দেখতেন। ঢাকার ফুলবাড়িয়ার মাহবুব আলি ইনস্টিটিউশনে তার বাবার নির্দেশিত নাটক মঞ্চস্থ হলে, তিনিও দেখতে যেতেন। সেখান থেকেই তার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়।

বুলবুল আহমেদ ঢাকার কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৫৭ সালে, ম্যাট্রিকুলেশন এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৫৯ সালে, আই.এ পাস করেন। নটরডেম কলেজ থেকে ১৯৬১ সালে, বি.এ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে ১৯৬৩-তে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের বার্ষিক নাটকে অভিনয় করতেন তিনি, এক সময় গ্রুপ থিয়েটার ড্রামা সার্কেল নাট্যগোষ্ঠির স্বক্রিয় সদস্য হয়ে যান।

পড়া-লেখা শেষ করে বুলবুল আহমেদ, তৎকালীন ইউবিএল ব্যাংক-এ চাকুরী নেন। ইউবিএল ব্যাংক-এর টিএসসি শাখার ম্যানেজার ছিলেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি মঞ্চ ও টিভি নাটকে অভিনয় করতেন।

টেলিভিশনে বুলবুল আহমেদ অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক- বরফ গলা নদী, মালঞ্চ, ইডিয়েট, মাল্যদান, বড় দিদি, আরেক ফাল্গুন, শেষ বিকেলের মেয়ে, দক্ষিণের জানালা, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, তুমি রবে নীরবে, টাকায় কি না হয়, হৈমন্তী, দূরদর্শিনী, সারাদিন বৃষ্টি, এই সব দিনরাত্রি, প্রভৃতি।

বুলবুল আহমেদ ‘ইয়ে করে বিয়ে’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ইউসুফ জহির পরিচালিত ছবিটি মুক্তিপায় ১৯৭৩ সালে। তার অভিনীত অন্যান্য ছবিসমূহের মধ্যে আছে- অঙ্গীকার, রূপালী সৈকতে, মনের মানুষ, অঙ্গার, সীমানা পেরিয়ে, সূর্য কন্যা, জননী, যাদুর বাঁশি, বধূ বিদায়, জন্ম থেকে জ্বলছি, ওয়াদা, দেবদাস, মহানায়ক, ভালো মানুষ, যৌতুক, সোনার হরিণ, দি ফাদার, আরাধনা, শেষ উত্তর, গাংচিল, সোনার তরী, কলমিলতা, কালো গোলাপ, সাক্ষী, আল্লাহ মেহেরবান, পুরস্কার, সময় কথা বলে, ফেরারী বসন্ত, সোহাগ, বৌরাণী, ঘর সংসার, ডার্লিং, শক্তিশালী, ছোট মা, জীবন নিয়ে জুয়া, সঙ্গিনী, স্মৃতি তুমি বেদনা, স্বামী, বদনাম, পেনশন, দহন, শত্রু, মা ও ছেলে, শুভদা, মায়ের দাবী, লাভ ইন আমেরিকা, সারেন্ডার, নওজোয়ান, ঝিনুকমালা, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, দুই জীবন, রঙ্গীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা, পদ্মা মেঘনা যমুনা, ত্রাস, বিক্ষোভ, এই ঘর এই সংসার, দিপু নাম্বার টু, মৌমাছি, আকর্ষণ, গরম হাওয়া, কত যে আপন, প্রাণের চেয়ে প্রিয়, এখনো অনেক রাত, শ্বশুরবাড়ী জিন্দাবাদ, নিঃশ্বাসে তুমি বিশ্বাসে তুমি, সুন্দরী বধূ, তুমি শুধু আমার, গোলাগুলি, দুই নয়নের আলো, ইত্যাদি।

বুলবুল আহমেদ যেমন চলচ্চিত্রের রূপালী পর্দায় আলো ছড়িয়েছেন তেমনি তার অভিনীত অনেকে চলচ্চিত্রের গানও মানুষের মনের গভীরে গেঁথে আছে। যেমন; হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে (মহানায়ক), আমার এই দুটি চোখ (মহানায়ক), বলবো কী আর ওগো তুমি যে আমার (সানাই), যদি বউ সাজো গো (ওয়াদা), সামাল সামাল সামাল সাথী (ওয়াদা), বিমূর্ত এই রাত্রি আমার (সীমানা পেরিয়ে), ঐ ভীরু মন আমার মনে (ভালো মানুষ, ছবিটি বুলবুল আহমেদ অভিনীত হলেও গানটির দৃশ্যে থাকেন ইলিয়াস কাঞ্চন ও ববিতা), মনটা কেন হঠাৎ করে বাঁধন হারালো (গাঙচিল), দুটি মন যখন কাছে এলো (সঙ্গিনী), তুমি ছাড়া আমি একা (দুই জীবন), দুঃখ ভালোবেসে প্রেমের খেলা খেলতে হয় (জন্ম থেকে জ্বলছি), চিরদিন সাথী তোমাকেই  চাই (কালো গোলাপ), এ আকাশকে সাক্ষী রেখে (সোহাগ), ও বউ কথা কও (শিমুল পারুল), একবার যদি কেউ ভালোবাসতো (জন্ম থেকে জ্বলছি), শত জনমের স্বপ্ন তুমি আমার জীবনে এলে (রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত), একটুস খানি দেখ (বধূ বিদায়) ও ভাপা পিঠারে (শিমুল পারুল) ইত্যাদি।

বুলবুল আহমেদ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কয়েকটি ছবি প্রযোজনা ও পরিচালনা করেছেন। তার প্রযোজীত ও পরিচালিত ছবি- মহানায়ক, ভালো মানুষ, রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত, আকর্ষণ, গরম হাওয়া, কত যে আপন, প্রভৃতি।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূুপ চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। সীমানা পেরিয়ে (১৯৭৭), বধু বিদায় (১৯৭৮), শেষ উত্তর (১৯৮০) ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং দীপু নাম্বার টু (১৯৯৬) ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। রূপালী সৈকতে (১৯৭৯), দেবদাস (১৯৮২), ফেরারী বসন্ত (১৯৮৩), রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে পেয়েছেন, বাচসাস চলচ্চিত্র পুরস্কার।

১৯৪১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পুরান ঢাকার আগামসি লেনে জন্মগ্রহণ করেন বুলবুল আহমেদ । পারিবারিক জীবনে ১৯৬৩ সালে, অভিনেত্রী ফৌজিয়া আহমেদ ডেইজিকে বিয়ে করেন তিনি। এই দম্পতির তিন সন্তান। মেয়ে ঐন্দ্রিলা ও তিলোত্তমা এবং ছেলে শুভ। ছেলে-মেয়েরাও অভিনয়ের সাথে যুক্ত। নায়ক বুলবুল আহমেদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে এবং প্রবীণ শিল্পীদেরকে সম্মানিত করার প্রয়াসে, পরিবারের পক্ষ থেকে গঠিত হয়েছে ‘বুলবুল আহমেদ ফাউন্ডেশন’। 





  বিষয়:   বুলবুল আহমেদ  চিত্রনায়ক  চলচ্চিত্র 



Loading...
Loading...


বিনোদন এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy