
X
সড়কের বেহাল দশা
শেরপুর জেলা সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার সংযোগ সড়কটির দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ। জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি এখন ভাঙাচোরা, খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে ভরে গিয়ে কার্যত জনদুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও লক্ষাধিক মানুষ এই পথে চলাচল করলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শেরপুর সদর থেকে বাজিতখিলা-তিনানী হয়ে নালিতাবাড়ী যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। অন্যদিকে শেখহাটি ও গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী পৌঁছাতে দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। প্রায় ১০ কিলোমিটার কম হওয়ায় সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য যাত্রীবাহী বাস, সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পণ্যবাহী যানসহ অধিকাংশ যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে।
কিন্তু বর্তমানে সড়কটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে, প্রতিদিনের যাতায়াত যেন এক দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। কোথাও পিচ উঠে বড় বড় গর্ত, কোথাও আবার দেড় থেকে দুই ফুট গভীর খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত পানিতে ডুবে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ছোট-বড় দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান মিস্ত্রি জানান, শেখহাটি বাজার, চৈতনখিলা বটতলা বাজার, গাজীরখামার বাজারসহ সড়কের বিভিন্ন অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। অনেক স্থানে সড়কের কার্পেটিং সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। ফলে যানবাহনের যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।কোন কোন সময় গাড়ি উল্টে আহত হচ্ছে যাত্রীরা ।
স্থানীয় পরিবহন চালক রহিম মিয়া বলেন, আগে যেখানে শেরপুর থেকে নালিতাবাড়ী যেতে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট সময় লাগত, এখন একই পথ পাড়ি দিতে প্রায় এক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাকা, সাসপেনশনসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যার আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল দোকানদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, অবিলম্বে শেরপুর-গাজীরখামার-নালিতাবাড়ী সড়কটি টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই সড়কটি শুধু নালিতাবাড়ীর নয়, শেরপুর জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। তাই জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত সংস্কারই এখন সময়ের দাবি।
এবিষয়ে এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খন্দকার মাহমুদুল আশরাফ বলেন, দেশে রুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট নামে একটি বড় প্রকল্প চালু হওয়ার কথা। সেটা চালু হলে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে । তবে আমরা সরকারি অর্থায়নে এই রাস্তার সংস্কার করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করব।