চিতলমারীতে বটতলায় জহর লালের ব্যাতিক্রমী পাঠশালা

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বলেশ্বর পাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অবৈতনিক পাঠদানের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে নানা শিক্ষা উপকরণ। বটগাছের নিচে ছোট্ট একটি টিনের ছাউনিতে

2026-08-08T13:01:16+00:00
2026-08-08T13:01:16+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
চিতলমারীতে বটতলায় জহর লালের ব্যাতিক্রমী পাঠশালা
চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০১ পিএম   (ভিজিট : ৩)
X

বলেশ্বর পাড়ের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অবৈতনিক পাঠদানের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে নানা শিক্ষা উপকরণ। বটগাছের নিচে ছোট্ট একটি টিনের ছাউনিতে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এ পাঠশালা।

প্রতিদিন অসংখ্য শিশুরা এখানে আসে পড়াশুনা করতে। পরম মমতায় তাদের শেখানো হচ্ছে লেখাপড়া। আর এমনই মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী রানাপাড়া গ্রামের শিক্ষানুরাগী যতীন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে জহরলাল সরকার।

এই ব্যতিক্রমী পাঠশালায় প্রায় ৩০ জন প্রাক্ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছেন তিনি। 

এখানে শুধু পাঠদানই নয়, নিজের অর্থে  খাতা,কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণও তুলে দিচ্ছেন শিক্ষার্থীদের হাতে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, রানাপাড়া গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই দরিদ্র। 

কাছাকাছি কোন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে অনেক দূরে গিয়ে পড়াশুনা করতে হয় শিশুদের। রোদ,বৃষ্টিতে শিশুদের দুরের স্কুলে যেতে সমস্যা হওয়ায় জহরলাল সরকার এ উদ্যোগটি গ্রহন করেছেন। তার এই মহতী কাজকে অনেকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। 

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী কবি পঙ্কজ রায় জানান, জহরলাল সরকারের পিতা যতীন্দ্র নাথ সরকার এলাকায় তৎকালীন সময়ে শিক্ষা প্রসারে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। বাবার মহতী কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন ছেলে জহরলাল সরকার। তাঁর এই পাঠশালার মাধ্যমে পিছিয়েপড়া শিশুরা নতুন ঠিকানা খুঁজে পাবে বলে মনে করেন তিনি। 

এ বিষয়ে জহরলাল সরকার জানান, ২০২২ সালে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ থেকে অবসর নেন তিনি। এখানকার শিক্ষা বঞ্চিত শিশুদের কথা ভেবে ২০২৩ সালে নিজের উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন এই পাঠশালা। 

তবে তার এই মহৎ উদ্যোগ নানা প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে। বটগাছের নিচে নির্মিত ছোট্ট টিনের ছাউনিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। তখন পাঠদান বন্ধ করে শিশুদের নিয়ে আশ্রয় খুঁজতে হয়। বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তা কাদায় ভরে যাওয়ায় ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের স্কুলে পৌঁছানোও হয়ে ওঠে কষ্টকর। 

জহরলাল সরকার আরো বলেন, "আমি চাই গ্রামের কোনো শিশুই যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। যতদিন পারি, তাদের পাশে থাকতে চাই।" তবে এই উদ্যোগকে টিকিয়ে রাখতে তিনি সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন। বিশেষ করে দুর্বার উন্নয়ন সংস্থার কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপকরণ এবং পাঠশালার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রবীণ দিবসে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক)-এর সহযোগিতায় জহরলাল সরকার তিনি শ্রেষ্ঠ শিক্ষক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy