
X
ফাইল ছবি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে ঘিরে দলের নেতাদের মধ্যে তৎপরতা বেড়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে আলোচনা। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তৃণমূলের সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
গত ২৬ জুলাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতৃত্ব নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক পদে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতির নাম প্রায় চূড়ান্ত বলে আলোচনা রয়েছে। এ পদে তাঁর কোনো শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অনেকে মনে করছেন।
তবে সদস্যসচিব পদ নিয়ে রয়েছে প্রতিযোগিতা। এ পদে সাবেক ছাত্রনেতা দারুল ইসলাম চৌধুরী, সদ্য বিলুপ্ত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার মাস্টার, সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নজমুল হক নাজিম, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান মিন্টু, সহসম্পাদক মোশারফ হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মকলেছার রহমান নবাব এবং সদ্য বিলুপ্ত কমিটির শিক্ষা ও মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু শহীদের নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, সদস্যসচিব পদপ্রত্যাশীরা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সমর্থন পাওয়ার পাশাপাশি দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপি নেতা ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামান জামানের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন।
নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে অপেক্ষাকৃত তরুণ, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হতে পারে। এ কারণে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের কয়েকজনের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দারুল ইসলাম চৌধুরী সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করেছেন। এ কারণে তৃণমূলের পাশাপাশি দলের শীর্ষ পর্যায়েও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। বেতদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এজাজুল মুন্সি, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মাস্টারসহ কয়েকজন নেতা তাঁর প্রতি নিজেদের আস্থার কথা জানিয়েছেন।
দলের তরুণ নেতাদের একটি অংশ বলছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রদল করা মেধাবী, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এদিকে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় বিএনপিতে আলোচনা রয়েছে। তাঁর ‘রহস্যজনক ভূমিকার’ কারণে নতুন কমিটিতে তিনি ও তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা পদ হারাতে পারেন বলে দলের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী।
উপজেলা বিএনপির পাশাপাশি ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির নতুন কমিটি নিয়েও নেতাদের মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। পৌর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নিয়েও দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ নতুন নেতৃত্বে সাংগঠনিক দক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ খুরশিদ আলম মতি বলেন, “বিএনপি একটি বড় দল। এখানে একাধিক যোগ্য নেতা রয়েছেন। তাঁদের মধ্য থেকে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা হবে।”
দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা, নতুন আহ্বায়ক কমিটিতে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি তরুণ ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে কারা আসছেন, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।