
X
মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ৪৪ বছরের পুরোনো ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টার প্রতিবাদে এবং স্থানান্তর না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন অন্যত্র স্থানান্তর করা হলে যাতায়াত সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যার মধ্যে পড়বেন ইউনিয়নটির বাসিন্দারা। পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক বিবেচনায় বর্তমান স্থানেই নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সদরপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয় চত্বরে চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন চলাকালে প্রতিবাদকারীরা জানান, ১৯৮২ সালে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি মোলামের ডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয়। যা ভৌগোলিক দিক থেকে ইউনিয়নটির মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত। সম্প্রতি ভবনটি ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে খেজুরতলা নামক এলাকায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এতে ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা ভোগান্তিতে পড়বেন বলে তাঁরা জানান। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা শামসুল হক বলেন, “১৯৮২ সালে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মিলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। এখানে ভোট অফিসের নামে রেকর্ডীয় সম্পত্তি রয়েছে। ভোট অফিস হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই এখানে আছে। কিন্তু বর্তমান চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ির পাশে ভবনটি নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহলের ব্যক্তিস্বার্থে এমন একটি এলাকায় ভবনটি নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যে এলাকাটি পাশের ভাষাণচর ইউনিয়নসংলগ্ন। ওই এলাকায় পরিষদের ভবন করা হলে ইউনিয়নবাসীর কোনো উপকার হবে না। বরং উল্টো ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হবে।
স্থানীয়রা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান কোথায় স্থাপন করা হবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষের যাতায়াত সুবিধা ও ভৌগোলিক অবস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাই পুরোনো স্থানেই নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্ত কামনা করেন তাঁরা।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, “বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি যেখানে রয়েছে, সেখানে মাত্র ১২ শতক জায়গা রয়েছে। যা নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অপ্রতুল। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কমপক্ষে ৪২ শতক জমি প্রয়োজন। নতুন করে যে এলাকায় ভবনটি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে পর্যাপ্ত জমি দিয়েছেন এলাকাবাসী এবং ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলমান। যদি পুরোনো জায়গায় স্থানীয়রা আমাদের জমি বুঝিয়ে দেন, তাহলে ওইখানেই রাখা হবে। জমি না দিলে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হবে।”
চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের ভবনটি যে স্থানে রয়েছে, সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। একই সঙ্গে ভবনে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক সুবিধাও পর্যাপ্ত নয়। নতুন যে স্থানে পরিষদ ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে এবং ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগেরও ব্যবস্থা আছে। ফলে সেখানে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালিত হলে ইউনিয়নবাসী আরও ভালো সেবা পাবেন।”
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই।”