
X
ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির শুমারিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নানা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত তালিকায় আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নাম থাকা, একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বামী-স্ত্রীকে নিয়োগ, একজনের নাম একাধিক ক্রমিকে থাকা এবং এক ইউনিয়নের প্রার্থীকে অন্য ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভাইবায় উত্তীর্ণসহ শত শত প্রার্থী।
এ ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার দুপুরে নাগেশ্বরী উপজেলা পরিষদের নোটিশ বোর্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী পদে ১৬৮ জন, অপেক্ষমাণ ৭৭ জন এবং সুপারভাইজার পদে ১৭ জন ও অপেক্ষমাণ তিনজনের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই ধাপে দুই পদে প্রায় চার হাজার আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রায় তিন হাজার পাঁচশত প্রার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়। তবে দুই পদে প্রাথমিকভাবে কতজনকে নির্বাচিত করা হয়েছিল, সে বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রকাশিত তালিকা পর্যালোচনা করে অভিযোগ পাওয়া গেছে, পাঁচটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা নিয়োগের তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণপুর ইউনিয়নের তালিকায় ৩৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ৬৭ নম্বর ক্রমিকে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং নেওয়াশী ও সন্তোষপুর ইউনিয়নের তালিকায় ছাত্রলীগের কর্মীদের নাম রয়েছে। এছাড়া পৌরসভায় জাতীয় পার্টির ছাত্রসমাজের এক সদস্যের নাম থাকারও অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে পৌরসভা, মালভাঙ্গা, বামনডাঙ্গা ও কালীগঞ্জ ইউনিয়নে সুপারভাইজার পদে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে থেকে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য ও সমর্থকদের চূড়ান্ত তালিকায় রাখার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
কালীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রুহুল আমিন বলেন, আমি কালীগঞ্জ ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা দিয়েছি এবং ভাইবায়ও পাস করেছি। অথচ আমাকে বাদ দিয়ে বেরুবাড়ী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ পরিবারের একজনকে সুপারভাইজার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি আমার প্রতি অবিচার।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর কালীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও যুবদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনেক অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। এখন বিএনপি সরকারের সময়েও যদি এমন বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রকাশিত তালিকায় একই ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড থেকে একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করা, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকা, একজনের নাম দুই ক্রমিকে রাখা এবং এক পদের প্রার্থীকে অন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ড ফাঁকা রেখে একটি ওয়ার্ড থেকেই চারজনকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় প্রার্থীরা।
এ ছাড়া রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ১৬ ও ১৮ নম্বর ক্রমিক, নুনখাওয়া ইউনিয়নের ১৪২ ও ১৪৩ নম্বর ক্রমিক এবং কালীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮৫ ও ৮৬ নম্বর ক্রমিকসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের একই পরিবার থেকে একাধিক সদস্য এবং স্বামী-স্ত্রীর নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালিকা পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ধনীরামপুরের জাহিদ হাসানের নাম সন্তোষপুর ইউনিয়নের ১২৩ ও ১২৯ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। একইভাবে কচাকাটা ইউনিয়নের ধনীরামপুর গ্রামের লিসা মনি খাতুনের নাম তথ্য সংগ্রহকারী পদে কেদার ইউনিয়নের ১৬০ এবং কচাকাটা ইউনিয়নের ৩৩ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ভাইবা বোর্ডের সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, যারা পাস, তাদের পাস এবং যারা ফেল, তাদের ফেল দেখানো হয়েছে। কোনো নম্বর দেওয়া হয়নি। আমরা সংকেত ব্যবহার করেছি।
তবে ওই সংকেতের ভিত্তিতে কীভাবে প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে পাস-ফেল নির্ধারণ করা হয়েছে এবং মূল্যায়নের নির্দিষ্ট মানদণ্ড কী ছিল এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।