প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৬ পিএম (ভিজিট : ৮)

X
শীতলপাটি শিল্পে নতুন আশার আলো
মৌলভীবাজারের রাজনগরে শীতলপাটি শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কর্মশালা এবং নকশা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করে আধুনিক বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা কারুশিল্পীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং শীতলপাটিকে লাভজনক রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কনজারভেশন অফিসার মো. নাসিব ইসলাম। সূচনা বক্তব্য দেন একই ফাউন্ডেশনের উপস্থাপক ও গাইড লেকচারার মো. মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী মাস্টার রাজনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি আউয়াল কালাম বেগ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান সোহেল। এ ছাড়া সিমান্তিকের জেলা টিম লিডার রেজাউল ইসলাম শীতলপাটি শিল্পী রমা দাস ও কারুশিল্পী প্রমেস দাসসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী কর্মশালায় বক্তারা বলেন, শীতলপাটি বাংলাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের অন্যতম নিদর্শন। মূলত মুর্তা বেত দিয়ে তৈরি এ শিল্প বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি ও কারুশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর রয়েছে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সম্ভাবনা। তবে কাঁচামালের সংকট পুঁজির অভাব প্লাস্টিকজাত পণ্যের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারুশিল্পীরা দিন দিন সংকটে পড়ছেন।
বক্তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক পণ্য হিসেবে শীতলপাটির দেশ-বিদেশে চাহিদা তৈরি করা সম্ভব। আধুনিক নকশা উন্নত মান ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিত করে তুললে এটি সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যে পরিণত হতে পারে।
শীতলপাটি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে কারুশিল্পীদের জন্য নিয়মিত প্রণোদনা বা ভাতার ব্যবস্থা, মুর্তা বেতের উৎপাদন বৃদ্ধি নার্সারির মাধ্যমে মুর্তা বেতের চারা বিতরণ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো এবং কারুশিল্পীদের সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে এ শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো আধুনিক নকশা ও প্রযুক্তির ব্যবহার শেখানো এবং উৎপাদিত শীতলপাটির জন্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, শীতলপাটি শুধু একটি পণ্য নয় এটি বাংলাদেশের শত বছরের লোকজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। যথাযথ সরকারি সহায়তা পরিকল্পিত বাজারব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বিলুপ্তির পথে থাকা এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।