প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৬ পিএম (ভিজিট : ৩)

X
ছবি: প্রতিনিধি
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রসূতি সেজে অভিনব কায়দায় শিশু চুরি করে পালানোর সময় শিশু সহ হাতে নাতে আটক করা হয়েছে একটি শিশু পাচার চক্রের সদস্য স্বামী-স্ত্রীকে।
সোমবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন উপজেলা ফাঁসিতলা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার পুত্র সিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শিফালী বেগম।পরে তাদেরকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।
জানা গেছে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের সমসপাড়া গ্রামের জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম সন্তান প্রসবের জন্য সকালে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসুতি বিভাগে ভর্তি হয়। যথাযথ চিকিৎসায় শেফালি বেগম একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন। প্রসবের পর শিশুটিকে কোলে নিয়ে তার দাদী জয়গুন বেওয়া ঘোরাফেরা করছিলেন।
এসময় পাশের বেড থেকে এসে শেফালী নামের এক প্রসূতী এসে জয়গুন বেওয়ার কাছ থেকে শিশুটি কোলে নেয়া ইচ্ছে পোষণ করে। শিশুটিকে তার দেয় জয়গুন বেওয়া। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলা করতে থাকে শেফালী বেগম। নবজাতককে ওই নারীর কোলে রেখে জয়গুন বেওয়া ডাক্তার কাছে গেলে সুযোগ বুঝে শেফালী বেগম ও তার স্বামী ওই নবজাতক পুত্র সন্তানটি নিয়ে পালানোর উেেদ্দশে হাসপাতাল প্রসূতি বিভাগ থেকে নীচে নেমে আসে। ইতোমধ্যে জয়গুন বেওয়া ফিরে এসে নবজাতক ও ওই নারীকে না পেয়ে তিনি চিৎকার করে ছুটাছুটি শুরু করে। একপর্যায়ে দ্রুত নীচে নেমে এসে দেখে শিশু সহ ওই নারী ও আরো ৩/৪ জন পালিয়ে যাচ্ছে।
এসময় চিৎকার তার চেচামেচিতে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী এগিয়ে এলে তার সহায়তায় নারী ও তার স্বামী সিরাজুলকে আটক করলেও পাচারকারী চক্রে অন্যান সদস্যরা পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে তারা মুলত শিশুপাচারকারী চক্রের সদস্য।
প্রসুতি সেজে শেফালি বেগম শিশু চুরির সুযোগ খুঁছিল। পরে প্রসুতি সাজার জন্য পেট উচু করতে শেফালি বেগমের পেটে ও কোমরে বেঁধে রাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে আটক ওই স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
নবজাতক শিশুর মা রুপালি কেগম বলেন আল্লাহ সহায় ছিলেন এ জন্য আমার সন্তানকে ফিরে পেয়েছি।
এ ব্যাপারে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত)স্বপন কুমার সরকারে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন এখন অভিযোগ পায়নি। পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।