
X
ফলাফলে ধস
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাসের এ হার ২০০৭ সালের পর এবার সবচেয়ে কম। ওই বছর (২০০৭) পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলাতেও এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয়ে অভিভাবক সহ এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
ধনবাড়ী উপজেলার এস এস সি, মাদ্রাসা ও কারিগরি সর্বমোট ২ হাজার ৫’শত৮৬ জন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ৩১ টি বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১৮৭৫ জন এর মধ্যে পাশ করেছে ১১শ৯৮ জন মোট পাশের হার ৬৩.৮৯ শতাংশ। ১৩ টি মাদ্রাসা’র মোট পরীক্ষার্থী ৩৪৫ জন এর মধ্যে পাশ করেছে ১শ৩৭ জন মোট পাশের হার ৩৯.৭১ শতাংশ। ১২ টি ভোকেশনালে মোট পরীক্ষার্থী ৩৬৬ জন এর মধ্যে পাশ করেছে ১শ৭৩ জন মোট পাশের হার ৪৭.২৬৮ শতাংশ।
ধনবাড়ী উপজেলার কছিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ছিলো ১ জন এর মধ্যে ১ পাশ করেছে। বাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৩ জন এর মধ্যে ১৪ পাশ, ফেল ২৯ জন। চরপাড়া মোহাম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১০ জন এর মধ্যে ৮ পাশ, ফেল ২ জন। সরকারী ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশনের মোট পরীক্ষার্থী ১২৯জন এর মধ্যে ১০৮ পাশ, ফেল ২১ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৪ জন। ভাইঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১২৯জন এর মধ্যে ৮৫ পাশ, ফেল ৪৪ জন , জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭ জন। হাজরাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৩২ জন এর মধ্যে ২৭ পাশ, ফেল ০৫ জন, , জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন।
বরমপুর গণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫২জন এর মধ্যে ২৭ পাশ, ফেল ২৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন। বানিয়াজান দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৭২ জন এর মধ্যে ৩৩ পাশ, ফেল ৩৯ জন। সাকিনা মেমোরিয়াল গালস্ হাই স্কুলে মোট পরীক্ষার্থী ৪৭ জন এর মধ্যে ২২ পাশ, ফেল ২৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। যদুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৪ জন এর মধ্যে ২৪ পাশ, ফেল ২০ জন। উখারিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৩৩ জন এর মধ্যে ২২ পাশ, ফেল ১১ জন। নরিল্যা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৭ জন এর মধ্যে ২৮ পাশ, ফেল ১৯ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬ জন। পাইস্কা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৬৮ জন এর মধ্যে ৫৩ পাশ, ফেল ১৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন।
পাইস্কা উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১১৭ জন এর মধ্যে ৮৩ পাশ, ফেল ৩৪ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ জন। কেন্দুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৭ জন এর মধ্যে ৩১ পাশ, ফেল ১৬ জন। গাড়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৩ জন এর মধ্যে ১৯ পাশ, ফেল ২৪ জন। পিটিএস উচ্চ বিদ্যালয়ে মোট পরীক্ষার্থী ৪৫ জন এর মধ্যে ১২ পাশ, ফেল ৩৩ জন। কদমতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৬৪ জন এর মধ্যে ৩৩ পাশ, ফেল ৩১ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ জন।। ধনবাড়ী কলেজিয়েট মডেল স্কুলে মোট পরীক্ষার্থী ১৯৯ জন এর মধ্যে ১৮৭ পাশ, ফেল ১২ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪২ জন। আমিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৬১ জন এর মধ্যে ৩৩ পাশ, ফেল ২৮ জন।
বিবিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ২৮ জন এর মধ্যে ১২ পাশ, ফেল ১৬ জন। মমতাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫৫ জন এর মধ্যে ২০ পাশ, ফেল ৩৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪ জন।। বিএস বি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫১ জন এর মধ্যে ২৪ পাশ, ফেল ২৭ জন। ধোপাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪৬ জন এর মধ্যে ২০ পাশ, ফেল ২৬ জন। পানকাতা হাতেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৪১ জন এর মধ্যে ১৬ পাশ, ফেল ২৫ জন। মুশুদ্দি আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৬৬জন এর মধ্যে ৫৫ পাশ, ফেল ১১ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। সয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫৬ জন এর মধ্যে ৪৪ পাশ, ফেল ১২ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৫ জন।
কেরামজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৯২ জন এর মধ্যে ৪৬ পাশ, ফেল ৪৬ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। পানকাতা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫৮ জন এর মধ্যে ৩৩ পাশ, ফেল ২৫ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩ জন। । মমিনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৩৭জন এর মধ্যে ২২ পাশ, ফেল ১৫ জন। শাপলা আইডিয়াল হাইস্কুলে মোট পরীক্ষার্থী ৬২ জন এর মধ্যে ৫৬ পাশ, ফেল ০৬ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন।
এসএসসি দাখিল: বলিভদ্র দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ১৬ জন এর মধ্যে ১ পাশ, ফেল ১৫ জন। বাড়ই পাড়া দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২১ জন এর মধ্যে ১ পাশ, ফেল ২০ জন। ছাতারকান্দি দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ০৬ জন এর মধ্যে ১ পাশ, ফেল ৫ জন। বলদী আটা ফাযিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৩৬ জন এর মধ্যে ১৪ পাশ, ফেল ২২ জন। ধনবাড়ী আলিম মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৩৫ জন এর মধ্যে ১০ পাশ, ফেল ২৫ জন। পীরপুর কিফাতিয়া দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২৪ জন এর মধ্যে ৯ পাশ, ফেল ১৫ জন।
জামতলী জহুরা রোস্তম দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৩৪ জন এর মধ্যে ১৯ পাশ, ফেল ১৫ জন। গোবিন্দপুর আলিম মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২৭ জন এর মধ্যে ১৮ পাশ, ফেল ৯ জন। হারিনাতেলী দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২৭ জন এর মধ্যে ১০ পাশ, ফেল ১৭ জন। ভাইঘাট দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২৭জন এর মধ্যে ৯ পাশ, ফেল ১৮ জন। বীরতারা দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৩৪ জন এর মধ্যে ১৯ পাশ, ফেল ১৫ জন। ইসপিঞ্জারপুর দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ২১ জন এর মধ্যে ৬ পাশ, ফেল ১৫ জন। নরিল্যা দাখিল মাদ্রাসার মোট পরীক্ষার্থী ৩৭ জন এর মধ্যে ২০পাশ, ফেল করছে ১৭ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন।
এসএসসি ভোকেশনাল: মুশুদ্দি আফাজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৫৫ জন, এর মধ্যে ২৯ পাশ, ফেল ১৬ জন। পানকাতা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ০৬ জন, এর মধ্যে ৩ পাশ, ফেল ৩ জন। কেন্দুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১৬ জন, এর মধ্যে ০৭ পাশ, ফেল ৯ জন। কেরামজানি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৩৯ জন, এর মধ্যে ২৪ পাশ, ফেল ১৫ জন। কেন্দুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১৬ জন, এর মধ্যে ০৭ পাশ, ফেল ৯ জন। সরকারী ধনবাড়ী নওয়াব ইনস্টিটিউশনের মোট পরীক্ষার্থী ১১০ জন এর মধ্যে ৬৫ পাশ, ফেল ৪৫ জন। উখারিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ৩১ জন, এর মধ্যে ০৪ পাশ, ফেল ২৭ জন।
নরিল্যা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ২৭ জন, এর মধ্যে ১৩ পাশ, ফেল ১৪ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ জন। ভাইঘাট টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ১৬ জন, এর মধ্যে ০৮ পাশ, ফেল ৮ জন, জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ জন। বিএসবি উচ্চ বিদ্যালয়ের মোট পরীক্ষার্থী ১২ জন, এর মধ্যে ৮ পাশ, ফেল ৪ জন। সাকিনা মেমোরিয়াল গালস্ হাই স্কুলে মোট পরীক্ষার্থী ১২ জন এর মধ্যে ০৬ পাশ, ফেল ০৬ জন। পলিশারপাড় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ২৬ জন এর মধ্যে ০৫ পাশ, ফেল ১৯ জন। উখারিয়াবাড়ী মহিলা টেকনিক্যাল বিএম কলেজের মোট পরীক্ষার্থী ১৬ জন এর মধ্যে ০১ পাশ, ফেল ১৫ জন।
ধনবাড়ী উপজেলায় এসএসসি সমমান পরীক্ষার এমন ফলাফলে অভিভাবক সহ সকলেই হতাশা গ্রস্ত। তবে এমন ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষা অধিদপ্তর সহ প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা চালাতে জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবক সহ এলাকাবাসী।
ধনবাড়ী উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ বাবুল হাছানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই ছেলে মেয়েরা স্কুল বিমুখ হওয়া ও পরীক্ষার হলে সিসি ক্যামেরা থাকার কারণে পরীক্ষার্থীরা পরিবেশটা মানিয়ে নিতে পারেনাই। আগেকার সময়ে তো এমন পরিবেশ ছিলো না পরীক্ষার হলে তখন ছেলে মেয়েরা একটু একদিক ওদিকে তাকাতে পারতো। তবে এখানে শিক্ষকদেরও পাঠদানে নিম্মমান রয়েছে। সেই সাথে ধনবাড়ী উপজেলায় এমন ফলাফল থেকে উত্তোরণে উপজেলা প্রশাসনসহ শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করা হবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ধনবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নূরজাহান আক্তার সাথী জানান, ধনবাড়ী উপজেলায় পরীক্ষার পরিবেশ অনেক চমৎকার ছিলো। সার্বক্ষণিকভাবে সিসি টিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হয়েছে। তবে যে সমস্ত বিদ্যালয়ে আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি সেই সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নতুন কমিটির সভাপতিসহ শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা প্রশাসন আলোচনো করে আগামীদিনে ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।