
X
ফলাফলে এগিয়ে মেয়েরা
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এ বোর্ডে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬০ হাজার ২৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের এসব তথ্য জানান বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫৩ হাজার ৮৭৭ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছে ২৮ হাজার ৩৭২ জন। তাদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে ৫১ হাজার ১৫১ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ হাজার ৯০২ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
অর্থাৎ পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ এগিয়ে রয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও মেয়েদের আধিপত্য রয়েছে। এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ হাজার ৭০০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।
বোর্ড সূত্র জানায়, গত বছর ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এবার পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৮৩ শতাংশ।
গত কয়েক বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৮৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে দাঁড়ায় ৫৮ দশমিক ২২ শতাংশে। এবার আরও কমে পাসের হার হয়েছে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৭১ দশমিক ৮৭ শতাংশ। মানবিক বিভাগে পাসের হার ৪৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন চার জেলার মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে নেত্রকোনা। এ জেলায় পাসের হার ৬০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ময়মনসিংহ জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, জামালপুরে ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং শেরপুরে ৫৫ দশমিক ৪১ শতাংশ।
এবার বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিপরীতে চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মো. এনামুল হক বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। এ দুটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়াশোনা করানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, নিয়মিত ক্লাস ও পড়াশোনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্লাস মনিটরিং শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে এনে পাঠদানের মান বাড়ানোর পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী দিনে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল আরও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন বোর্ড সচিব।