
X
সংগৃহীত ছবি
ব্যক্তিগত জীবনে অতীতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খান। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নিজের দুই যুগের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিজীবনের টানাপোড়েন এবং সামাজিক মাধ্যমের সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। তার মতে, অতীতে করা ভুলগুলো না হলে জীবনের পথচলা আরও মসৃণ হতে পারত।
জীবনে কোনো ভুল করেছেন কি না, সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্নের মুখে অকপটে নিজের আক্ষেপের কথা স্বীকার করেন এই চিত্রনায়ক। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ভুলের কথা তিনি উল্লেখ করেননি। শাকিব খান জানান, পেছন ফিরে তাকালে অনেক সিদ্ধান্তের জন্যই এখন তার আফসোস হয়। নিভৃতে নিজের জীবনের হিসাব-নিকাশ মেলাতে গেলে বিষয়গুলো তাকে পীড়া দেয়। কপালের ওপর দায় ছেড়ে দিয়ে তিনি বলেন, মানুষমাত্রই ভুল হয়। তবে একবার ভুল বুঝতে পারার পর জেনেশুনে তা আর পুনরায় করার কোনো সুযোগ নেই।
আলাপচারিতার একপর্যায়ে ইঙ্গিতে শাকিব খানের দুই স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, তারা দুজনই তার জীবনের অংশ। তবে ব্যক্তিগত এসব বিষয় নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলতে বা আলোচনা বাড়াতে আগ্রহী নন। সঞ্চালক তাদের কোনো বিষয়ে সতর্ক করা হয় কি না জানতে চাইলে শাকিব খান জানান, দেখা হলে মাঝে মাঝে তাদের তিনি বিভিন্ন বিষয়ে বলে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অতিরঞ্জিত খবর ও গুজব নিয়েও কথা বলেন শাকিব খান। তিনি জানান, অনেক সময় এমন সব অদ্ভুত ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে প্রচার করা হয়, যার সঙ্গে বাস্তবে তার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। এসব মনগড়া প্রচারণার কারণেই তিনি ইদানীং অনেকটা অন্তর্মুখী হয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ব্যক্তিগত আলাপচারিতার পাশাপাশি নিজের পেশাদারি কাজের খবরও দিয়েছেন এই অভিনেতা। আসন্ন সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের অক্টোবরের দিকে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে পারে। পেছনের সব বিতর্ক ভুলে জীবনের বাকি সময়টুকু হাসি-আনন্দ ও শান্তিতে কাটানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আবুল খায়ের বুলবুলের পরিচালনায় শাকিবের প্রথম সিনেমা সবাইতো সুখী হতে চায়। সিনেমাটির শুটিং চলাকালীন সময়েই শাকিব খানের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচালক-প্রযোজকদের মাঝে। এটা ১৯৯৯ সালের কথা। সিনেমা হলে শাকিব খানের মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত অনন্ত ভালোবাসা। ১৯৯৯ সালের ২৮ মে অন্তত ভালোবাসা সিনেমাটি মুক্তি পায়। এ সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন। কিন্তু এ সিনেমাটি শাকিবকে নায়ক হিসেবে খ্যাতি এনে দিতে না পারলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্যবসা সফল সিনেমার কারণে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
শাকিব খানের উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে- ফুল নেবনা অশ্রু নেব, ও প্রিয়া তুমি কোথায়, সবার উপরে প্রেম, নয়ন ভরা জল, কোটি টাকার কাবিন, পিতার আসন, দাদীমা, ১ টাকার বউ, সন্তান আমার অহংকার, প্রিয়া আমার প্রিয়া, আমার প্রাণের প্রিয়া, কোটি টাকার প্রেম, মাটির ঠিকানা, কিং খান, মনের জ্বালা, আদরের জামাই, বস নাম্বার ওয়ান, টাইগার নাম্বার ওয়ান, ঢাকা টু বোম্বে, ফুল এন্ড ফাইনাল, নিষ্পাপ মুন্না, জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, দেবদাস, মাই নেম ইজ খান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনি, হিরো দ্য সুপারস্টার, শিকারি, রানা পাগলা, সম্রাট, বসগিরি, গলুই।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে মোট চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান। ২০১২ সালে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ২০১৪ সালে ‘খোদার পরে মা’, ২০১৬ সালের ‘আরও ভালোবাসবো তোমায়’ ও ২০১৭ সালে ‘সত্তা’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।