
X
সংগৃহীত ছবি
ব্রেন টিউমারের পরবর্তী ধাপের চিকিৎসা নিতে আজ লন্ডনে যাচ্ছেন অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। সকাল ১০টার ফ্লাইটে তিনি লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে মিরাজুল মইন জয়। এ সময় সঙ্গে থাকবেন অভিনেতার স্ত্রী ও জামাতা আরিফুল ইসলাম কলিন্স।
লন্ডন পৌঁছানোর পর এক সপ্তাহ বিশ্রামে থাকবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। এরপর শুরু হবে চিকিৎসা। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পরবর্তী চিকিৎসার পদ্ধতি ঠিক করা হবে। জয় জানিয়েছেন, পূর্ব লন্ডনে টেমস নদীতীরবর্তী শহর বার্কিংয়ে থাকেন তার বোন ইমা ইসলাম। লন্ডনে ফিরে সেখানেই উঠবেন ইলিয়াস কাঞ্চন। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতাল ও মেয়ে ইমা ইসলামের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন অভিনেতা। এবার লন্ডনে ফেরার পর মাউন্ট ভার্নন হাসপাতালে আবারও চিকিৎসা শুরু হবে তার।
গত বছর আগস্টে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ইলিয়াস কাঞ্চনের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা টিউমারের বড় একটি অংশ অপসারণ করতে সক্ষম হলেও ঝুঁকির কারণে পুরো টিউমার সরানো সম্ভব হয়নি। শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। টানা তিন মাস কেমোথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি চলে ওরাল থেরাপি। সে সময় সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ১২ সপ্তাহের চিকিৎসায় ৬০টির বেশি কেমোথেরাপি নিতে হয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের। এরপর তিন মাসের প্রথম ধাপের ওরাল থেরাপি শেষ করে আরও তিন মাসের দ্বিতীয় ধাপের ওরাল থেরাপি নেন তিনি।
জয় জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট। টিউমারটি অনেক ছোট হয়ে এসেছে। যেহেতু এখনো টিউমার পুরোপুরি অপসারণ করা সম্ভব হয়নি এবং কেমোথেরাপি শেষ করা হয়েছে। তাই নতুন চিকিৎসা শুরুর কথা ভাবছেন চিকিৎসকেরা। অভিনেতার লন্ডনে ফেরার পর সিটি স্ক্যান, এমআরআইসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে চিকিৎসাপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন চিকিৎসকেরা।
৩ আগস্ট পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। দেশে আসার পর তার সঙ্গে দেখা করেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীর, মিশা সওদাগর অভিনেত্রী শবনম, আনোয়ারা, সুচন্দা, রোজিনা, চম্পা, মুক্তিসহ অনেকে। ৭ আগস্ট রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে যোগ দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কিশোরগঞ্জে গ্রামের বাড়িতেও যান এ অভিনেতা।
৯ আগস্ট রাতে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘দেশে আসার পর একটু বেশি আরাম বোধ করছি। ঘুমটা খুব ভালো হয়েছে। অনেকেই আসছেন, দেখা করছেন, কথা বলছি, খুব ভালো লাগছে। জীবনের এই পর্যায়ে এসে শুধু একটাই চাওয়া- আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন, যেন দ্রুত চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে পারি। আমার দেশে থাকতেই ভালো লাগে।’
জয় বলেন, ‘আব্বুর মুখের হাসিটাই আমার প্রাণ। আব্বুকে হাসিখুশি দেখে আমারও ভালো লাগছে। সবাই আমার প্রাণপ্রিয় আব্বুর জন্য দোয়া করবেন।’
উল্লেখ্য, ইলিয়াস কাঞ্চন ৩৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তারমধ্যে বেশিরভাগ ছবিই ব্লকবাস্টার হিট ছিলো। আর ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া তার অভিনীত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র ব্যবসায়িক সাফল্য এখনো ঢাকাই ছবিতে রূপকথা হয়ে আছে। তোজাম্মেল হক বকুলের পরিচালনায় এই ছবিতে কাঞ্চন জুটি বেঁধেছিলেন অঞ্জু ঘোষের সাথে। সীমাহীন কষ্টের এক অসাধারণ প্রেমের গল্প বেদের মেয়ে জোছনা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বাধিক ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃত।
সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘বসুন্ধরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ইলিয়াস কাঞ্চনের। ১৯৭৭ সালের ২৬ মার্চ তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। একই বছর ৩১ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পায়। এ ছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন ববিতা।
বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক জনপ্রিয় গানের কথা মনে হলেও ভেসে উঠে ইলিয়াস কাঞ্চনের কথা। যার মধ্যে উল্লেখ করা যায়- ‘আমার গরুর গাড়ীতে বউ সাজিয়ে’, ‘কথা বলবো না , বলেছি’, ‘আজ রাত সারারাত জেগে থাকবো’, ‘সত্য কি? মিথ্যে কি’?’, ‘পৃথিবীর যত সুখ’ ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘তুই তো কাল চলে যাবি’, ‘তুমি চেনো কি আমারে’, ‘আমরা বাপবেটা ৪২০’, ‘আর যাবো না আমেরিকা’, ‘আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা’, ‘বেলি ফুলের মালা দিয়ে’, ‘আমি আজ কথা দিলাম আই লাভ ইউ’, ‘ভালোবাসা যত বড় জীবন তত বড় নয়’, ‘আমার এ গান তোমারই জন্য’, ‘আমরা দুজন চিরসাথী’, ‘সবার জীবনে প্রেম আসে’ গানেরর নাম।