প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৩ পিএম (ভিজিট : ১)

X
ছবি : প্রতিনিধি
"হাতি রক্ষা করি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করি" এই প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের আওতাধীন মাদার্শা রেঞ্জের উদ্যোগে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মাদার্শা রেঞ্জ কার্যালয় থেকে সচেতনতামূলক র্যালিটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এসে সম্পন্ন হয়।
পরে ওই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বন্য হাতি সংরক্ষণ, হাতি ও মানুষের সংঘাত নিরসন এবং হাতির আবাসস্থল রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
আলোচনা সভায় মাদার্শা রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন বলেন, হাতি আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় হাতি দেখা গেলে উত্তেজিত না হয়ে বন বিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের স্থায়ী বনাঞ্চলে বন্যহাতির সংখ্যা প্রায় ২৬৮টি। তারমধ্য প্রায় ৬৫টি বন্যহাতি চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভিন্ন বনাঞ্চলে বিচরণ করে থাকে। ভারত ও মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যাতাযাত করা হাতির সংখ্যা প্রায় ৯৩টি। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা, সাফারি পার্ক ও ব্যক্তি মালিকানায় বন্দী হাতির সংখ্যা প্রায় ৯৬ টি। হাতি আজ মহাবিপন্ন প্রাণী। তাই হাতি রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মো. ইয়াহিয়া বলেন, হাতি সংরক্ষণ শুধু বন বিভাগের একার দায়িত্ব নয়। স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। হাতি ও মানুষের সংঘাতের কারণগুলো চিহ্নিত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি হাতির নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি। এ ছাড়াও বন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া, হাতির চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং মানুষের বসতি বনের কাছাকাছি বিস্তৃত হওয়ার কারণে অনেক এলাকায় মানুষ ও হাতির সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চুড়ামনি বন বিট কর্মকর্তা মো. মহসিন হাওলাদার, বড় মাদ্রা বন বিট কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম এবং মাদার্শা, চুড়ামনি ও বড় মাদ্রা বন বিটের বনরক্ষী, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্যবৃন্দ, সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।