
X
ছবি : প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে একদিনে একটি জাহাজে রপ্তানি পণ্যভর্তি সর্বাধিক কনটেইনার জাহাজীকরণে রেকর্ড গড়েছে জিসিবি (জেনারেল কার্গো বার্থ)।
১১ নম্বর জেটিতে বুধবার (১২ আগস্ট) সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী ‘এমভি মায়র্স্ক বিনতুলু’ গঅঊজঝক ইওঘঞটখট জাহাজে এ রেকর্ড হয়েছে।
১৮৫ দশমিক ৯৯ মিটার লম্বা এবং ৩৬ মিটার প্রস্থের জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দরে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মেইন লাইন শিপিং অপারেটর মায়র্স্ক লাইনের এই জাহাজে ১ হাজার ৭৮৪ টিইইউএস (৯৩৩ বক্স) রপ্তানিপণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজীকরণ হয়।
একই সঙ্গে আরও ১৪৭ টিইইউএস (১৪৪ বক্স) খালি কনটেইনার মিলে মোট ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস কনটেইনার তোলা হয় জাহাজটিতে।
মোট কনটেইনার লোড হয়েছে ১ হাজার ৭৭ বক্সে ১ হাজার ৯৩১ টিইইউএস।
বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, এটি এ যাবত কালের মধ্যে একটি জাহাজে সর্বোচ্চ রপ্তানি কনটেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড। এর আগে গত ১৮ জুন রপ্তানি পণ্যবাহী লোড কনটেইনার জাহাজীকরণের রেকর্ড ছিল ৭৪২ বক্সে ১৪৩৯ টিইইউএস।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, রোদ, বৃষ্টি, সমুদ্রের ঢেউয়ের পানি থেকে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছাতে কনটেইনারের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। কনটেইনার শুধু যে পণ্যের গুণগতমান রক্ষা করে তা নয়, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আধুনিক ক্রেন ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপদে লোড-আনলোড এবং প্রাইম মুভার, ট্রেইলার ও লরির সাহায্যে সড়কপথে পরিবহনের সুবিধাও পাওয়া যায়। তাই মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে কনটেইনারে পণ্য পরিবহন বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে। ২০ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট লম্বা কনটেইনার রয়েছে। একেকটি কনটেইনারের একেকটি ইউনিক নাম্বার রয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনো কনটেইনারের সঙ্গে মিলে যাওয়ার কথা নয়। হিসাবের সুবিধার্থে ৪০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনারকে ২০ ফুট দীর্ঘ ২টি কনটেইনার হিসাব করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউএস। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউএস। ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউএস বেড়ে এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক নেতা খায়রুল আলম সুজন বলেন, জিসিবিতে গ্যান্ট্রি ক্রেন নেই। জাহাজের নিজস্ব ক্রেন দিয়ে কনটেইনার লোড-আনলোড করতে হয়। জিসিবি থেকে একটি জাহাজে সর্বোচ্চ কনটেইনার লোড করা নিঃসন্দেহে গৌরবের। যত বড় জাহাজ যত বেশি কনটেইনার নিয়ে বন্দরে আসা-যাওয়া করবে তত দেশের লাভ। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং রাজস্ব ও রপ্তানি আয় বাড়বে।
তিনি বলেন, বড় জাহাজ আনার জন্য আমাদের বন্দর জেটি ও চ্যানেলের ড্রাফট বাড়াতে পারলে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সাড়ে ৯ থেকে বাড়িয়ে ১০ মিটার ড্রাফট করতে পারলে অনায়াসে আড়াই হাজার টিইইউএস কনটেইনারবাহী জাহাজ আসা-যাওয়া করতে পারবে।
তিনি বলেন, ইউরোপ আমেরিকার বন্দরে রপ্তানির কনটেইনার পাঠানোর ক্ষেত্রে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে পোর্টকেলাং বা সিঙ্গাপুর ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে যদি আমরা বেশি কনটেইনার একসাথে পাঠাতে পারি তাহলে মাদারভ্যাসেলে স্লট পেতে সুবিধা হয়। শিপিং এজেন্ট প্রিন্সিপালকে বলে দিতে পারবে আমার এত কনটেইনার যাচ্ছে তার জন্য স্লট রেডি রাখেন। এক চালানের কনটেইনার কয়েকভাগে গেলে নানা সমস্যার উদ্ভব হয়।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, একটি জাহাজ প্রায় ২ হাজার টিইইউএস কনটেনার নিয়ে বন্দর ছেড়ে গেছে এটা নিঃসন্দেহে গৌরবের। এতে ফ্রেইট কমবে, রেভিনিউ বাড়বে, জাহাজ মালিকের আয় বাড়বে।
সবচেয়ে বড় কথা মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে ইতিবাচক বার্তা দেবে। নিয়মিত যাতে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার জাহাজীকরণ সম্ভব হয় তার জন্য বিজিএমইএ, অফডক, বন্দর, শিপিং এজেন্ট, বার্থ অপারেটর সবার সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকতে হবে। শিপিং লাইনের ডিমান্ড অনুযায়ী কনটেইনার সাপ্লাই দিতে হবে।