প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ পিএম (ভিজিট : ৩৪১)

X
কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখা একটি চিঠির শেষ লাইনের বেদনা বাস্তব রূপ নিল যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে। অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে সেই হৃদয়বিদারক মুহূর্তের কথা তুলে ধরেছেন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে শাওন কারাবন্দি সাদ্দামের লেখা একটি চিঠির ছবি প্রকাশ করেন। চিঠির শেষ দুই লাইনে লেখা ছিল—“মায়ের দিকে খেয়াল রাখিস। আমার ছেলেটাকে কোলে নিতে পারলাম না—এইটাই কষ্ট।”
পোস্টে শাওন লেখেন, “ছেলেটা আজ তার বাবার কোলে উঠেছে…। কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার নয় মাস বয়সী ছেলেটাকে প্রথমবার কোলে নিয়েছে। না, ভুল বললাম কারা ফটকে সাদ্দাম আজ তার নয় মাস বয়সী মৃত ছেলেটাকে প্রথমবারের মতো কোলে নিয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সংবাদে দেখা গেছে—মৃত সন্তানকে কোলে নিয়ে সাদ্দাম তার স্ত্রীর মরদেহ স্পর্শ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সাদ্দামকে উদ্দেশ করে শাওন লেখেন, “সাদ্দাম, আপনি কাঁদেন—অনেক কাঁদেন, চিৎকার করে কাঁদেন। তারপর অভিশাপ দেন সেই মানুষরূপী অমানুষগুলোকে, যাদের কারণে আজ আপনার এই দিন দেখতে হলো।”
পোস্টের শেষাংশে তিনি একটি প্রশ্নও তোলেন। শাওন লেখেন, “মাননীয় উপদেষ্টাদের দল—কোনো জাদুঘরে কি এই চিঠির স্থান হবে?”
উল্লেখ্য, স্ত্রী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী ও নয় মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যুর ঘটনায় প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়ায় বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকেই শেষবারের মতো তাদের মরদেহ দেখেন। শনিবার সন্ধ্যায় মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের সামনে আনা হলে কারা কর্তৃপক্ষ পাঁচ মিনিটের জন্য ছয়জন স্বজনসহ সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেয়।
পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং তার শিশু সন্তানের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতাশাজনিত কারণে সন্তান হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করেছেন। রাজনৈতিক মামলায় কারাবন্দি সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন নাকচ হওয়ায় মরদেহ কারাফটকে আনার ব্যবস্থা করা হয় বলে স্বজনরা জানান।