প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন

ময়মনসিংহ ব্যুরো

বিনোদন

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার (৬৭) মারা গেছেন। আজ শুক্রবার ভোর ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়

2026-02-06T19:15:26+00:00
2026-02-06T19:15:26+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার মারা গেছেন
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম   (ভিজিট : ২০০)
X

প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার (৬৭) মারা গেছেন। আজ শুক্রবার ভোর ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে দীনেশ কর্মকার ও কমলা কর্মকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সুনীল কর্মকার মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে যেকোনো আসর একাই মাতিয়ে তুলতে পারতেন তিনি। কেবল কণ্ঠ নয়, বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম-একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এই শিল্পী।

ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আসলাম বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাউল সাধক সুনীল কর্মকার পরলোক গমন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে আক্রান্তসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। মরদেহ নগরের আঠারো বাড়িতে রাখা হয়েছে। দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য টাউন হল মাঠে রাখা হবে। পরে জেলার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় সমাহিত করা হবে। 

শিল্পির ভক্তরা জানান, বিখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনেই গানের জগতে নিজেকে সঁপে দেন বালক সুনীল। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর করে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে বহু জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা গান রয়েছে। পাশাপাশি তার নিজের লেখা গানের সংখ্যাও কম নয়, প্রায় দুইশোর কাছাকাছি গান রচনা করেছেন তিনি। বাউল মালজোড়া গান, মহাজনী গান ও লোক সংগীতের একজন স্বনামধন্য শিল্পী ছিলেন সুনীল কর্মকার। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সর্বজেষ্ঠ। দ্বিতীয় ভাই দীলিপ কর্মকার একজন স্বর্নশিল্পী। সর্ব কনিষ্ঠ ভাই শ্রীমল কর্মকার ও বাবা দীনেশ কর্মকার ১৯৭১ সনে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আশ্রয় শিবিরে অসুস্থতা জনিত কারনে স্বর্গীয় হন। মাত্র সাত বছর বয়সে গান শুরু করা সুনীল কর্মকার টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো হারান। দৃষ্টিহীন সুনীল কর্মকারের গানের আগ্রহ তখনো কমেনি। গানের সঙ্গে জীবন গড়েন। 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, উনি দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। সুনীল কর্মকার শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার  ছন্দে ওনার কণ্ঠের সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। ওনার গাওয়া গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম এবং স্রষ্টার প্রতি ভক্তির কথাই বেশি শোনা যেত। সংগীতই ছিল ওনার একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান। মানুষ ধরো, মানুষ ভোজ ওস্তাদ জালাল উদ্দীন খাঁ সেই  বিখ্যাত গানে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। দৃষ্টহীন এই শিল্পীর লোক সঙ্গীতে অবদানের জন্য ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রদত্ত শিল্পকলা পদক লাভ করেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালে ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।






Loading...
Loading...


বিনোদন এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy