নীলফামারী-৪ আসনে জাপা প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী

সারাবাংলা

নীলফামারী-৪ সংসদীয় (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক এমপি মো. সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনী কার্যালয়ে

2026-02-10T17:45:33+00:00
2026-02-10T17:45:33+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নীলফামারী-৪ আসনে জাপা প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ২০৩)
X

নীলফামারী-৪ সংসদীয়  (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক এমপি মো. সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ইকু হেরিটেজ হোটেল এন্ড রিসোর্ট এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. সিদ্দিকুল আলম বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করেন এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন শুরু থেকেই তাকে নানাভাবে বাধা ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। চারটি গায়েবি মামলা দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা করা হয়। সেখানে ব্যর্থ হয়ে প্রার্থিতা বাতিলের জন্য কমিশনে রিটসহ চরম আইনি হয়রানি করা হয়। পরবর্তীতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে প্রচারণা শুরু করলে তাকে নানা হুমকি, চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করা হয়। এমনকি তার কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয় এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের সমর্থকদের এলাকা ছাড়ার ভয় দেখানো হয়।

এসব বাধা উপেক্ষা করে তিনি জনগণের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন সিদ্দিকুল আলম। এতে প্রতিপক্ষ ভীত হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি কিশোরগঞ্জের রনচন্ডি এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলা চালায়। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত পরিচালিত ফেক আইডি থেকে তার জনপ্রিয়তাকে ‘টাকার জনজোয়ার’ বলে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে সৈয়দপুর শহরের নতুন বাবুপাড়া প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ‘টাকা বিতরণ’-এর মিথ্যা অভিযোগ তুলে জামায়াত ও এনসিপির কর্মীদের একত্রিত করে হামলা চালানো হয়।

তার অভিযোগ অনুযায়ী, সাংবাদিক জাকির হোসেন, জামায়াত প্রার্থী মুনতাকিমের ছোট ভাই দুলাল, এনসিপির জাবেদ আততারী ও আল-ফারুকের প্রিন্সিপাল শফিকুলের নেতৃত্বে তিন শতাধিক স্বশস্ত্র ব্যক্তি এই হামলায় অংশ নেয়। এতে তার কার্যালয়ের দেয়াল, গেট, জানালা ও দুটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

হামলার সময় প্রায় দুই ঘণ্টা তার কর্মীরা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় ১০ জন কর্মীকে মারধর করা হয়, যার মধ্যে তিনজনের মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং দু’জন গুরুতর আহত হন। আহত কর্মী কালাশাহকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর কমিউনিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি জানান, ঘটনার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়ে কোনো অবৈধ কিছু পাননি বলে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মো. সিদ্দিকুল আলম অভিযোগ করেন, ঘটনার পর এখনো দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

একইসঙ্গে নির্বাচন বানচালের এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শান্তিপ্রিয় সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জের সাধারণ ভোটারদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy