
X
সংগৃহীত ছবি
ঢাকাই সিনেমার তারকা অভিনেত্রী মৌসুমী। সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন তিনি। কিছু দিন আগে গুঞ্জন চাউর হয়, অভিনয়শিল্পী ও পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীরকে বিয়ে করেছেন মৌসুমী। যদিও এ অভিনেতা বিষয়টিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে হাসান জাহাঙ্গীর কথা বললেও নীরব ছিলেন মৌসুমী। অবশেষে আড়াল ভেঙে সামনে এলেন। বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নব্বই দশকের এই তারকা। মৌসুমী বলেন, ‘এ ধরনের প্রোপাগান্ডা নিয়ে কী বলব। যে কথা বলিই না কেন, মিথ্যা খবরটাই মানুষের কাছে মুখরোচক মনে হবে।
তবে এ ধরনের প্রোপাগান্ডা আমার কাছে খুবই বিরক্ত লাগে, এসব নিয়ে কথা বলাটাও এক রকম মূল্যহীন মনে হয়। আমি তো এসব নিয়ে কোনো ধরনের পাবলিসিটি চাচ্ছি না। যার দরকার সে হয়তো এটা নিয়ে কথা বলছে, বলুক।’ কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে মজা পায় বলে মনে করেন মৌসুমী। তার মতে, ‘জগতে কিছু নিন্দুক থাকবে, তারা মানুষকে নিয়ে বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলে মজা পায়, তারা এসব গল্প বলতেই থাকবে। এ ধরনের মানুষ এখন ভিউ চায়, সবার একটু মনোযোগ চায়, তারা কোনো কিছু না জেনে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে রংচং মিশিয়ে উপস্থাপন করে ফেসবুকে। কখনো পোস্ট আকারে লেখে আবার কখনো ভিডিও বানায়। শিল্পী ও পরিচিত মানুষদের নাম ব্যবহার করে এসব ভিডিও বানালে বা পোস্ট করলে ফেসবুকে রিচ বাড়ে, ইউটিউবে ভিউ হয় বেশি- এই সুযোগটা তারা নেয়।’
এসব সংকট নিরসনে আইনের প্রয়োগের বিষয়টি সামনে আনেন মৌসুমী। এ অভনেত্রী বলেন, ‘এটার প্রতিকারে যদি আইনে থাকত, আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আগে কখনো দেওয়া হতো, তখন এসব নিয়ে ভিউখোর মানুষের গুজব ছড়ানো বন্ধ হয়ে যেত। ভিউখোর মানুষেরা ব্যক্তিগত স্বার্থের লোভে শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
এসব গুজবে আপনার কী মন খারাপ হয়? জবাবে মৌসুমী বলেন, ‘শিল্পীরাও মানুষ, তাদেরও জীবন আছে। তারাও সমাজে থাকে, সংসার করে। একজন শিল্পী দীর্ঘ সময়ে তৈরি হয়। যারা মিথ্যাচার করছে, তারা আমাকে মৌসুমী বানায়নি। তারা চাইলেও আমি মানুষের মনে যে জায়গায় আছি- সেখান থেকে এক চুলও নাড়াতে পারবে না। কথায় আছে না, আমার অর্জন তো আমার ভেতরকার, দান করেছে আমার সৃষ্টিকর্তা, আমি এটাকে কীভাবে ব্যবহার করছি, সেটা একান্তই আমার ব্যাপার। এসবে আমি পাত্তা দিইনি কখনো, ভবিষ্যতেও পাবে না।’
ছোটবেলা থেকেই অভিনেত্রী এবং গায়িকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মৌসুমী। এরপর তিনি ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। যার উপর ভিত্তি করে ১৯৯০ সালে টেলিভিশনের বাণিজ্যিকধারার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সুযোগ পান। ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন মিষ্টি চেহারার নায়িকা মৌসুমী।
ওই ছবিতে তার নায়ক ছিলেন প্রয়াত সুপারস্টার সালমান শাহ। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছিল তাদের দুজনেরই অভিষেক ছবি। প্রথম ছবিতেই পরিচালক-প্রযোজক ও দর্শকের নজর কাড়েন মৌসুমী, সঙ্গে সালমান শাহও। এরপর শুধু ছুটেই চলেছেন। কখনোই আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। অভিনয় জীবনে দুর্দিনও খুব একটা আসেনি। ক্যারিয়ারে মৌসুমী অভিনয় করেছেন ৮০টিরও বেশি ছবিতে। যার অধিকাংশই ব্যবসাসফল। এই নায়িকার সঙ্গে মান্না ও ইলিয়াস কাঞ্চনের জুটি ছিল সুপারহিট। এছাড়া স্বামী ওমর সানীর সঙ্গেও বেশ কয়েকটি ভালো ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।
মৌসুমী অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দোলা’, ‘মৌসুমী’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিদ্রোহী বধূ’, ‘আত্মত্যাগ’, ‘বিশ্ব প্রেমিক’, ‘গরীবের রানী’, ‘লুটতরাজ’, ‘লাট সাহেবের মেয়ে’, ‘আম্মাজান’, ‘কষ্ট’, ‘খায়রুন সুন্দরী’, ‘মেঘলা আকাশ, ‘দেবদাস’ এবং ‘তারকাঁটা’ উল্লেখযোগ্য।
ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মৌসুমী। সেই তিনটি সিনেমা হলো- মেঘলা আকাশ, দেবদাস, তারকাঁটা। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার জিতেছেন তিনবার। এছাড়া ছয়বার পেয়েছেন বাচসাস পুরস্কার।