প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম (ভিজিট : ১০৭২)

X
মৌলভীবাজারের রাজনগরে ভিন্নধর্মী এক আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রবাসী যুবক সুকান্ত সেন ও চীনের সাংহাইয়ের বাসিন্দা ক্রিস হুই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে শতাধিক অতিথি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। এর আগে কনে ক্রিস হুই গত বৃহস্পতিবার চীন থেকে বাংলাদেশে পৌঁছান। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হেলিকপ্টারে করে রাজনগরের টিকরপাড়া গ্রামে নিয়ে আসা হয় তাকে। আকাশপথে কনের আগমনকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস।
বিয়ের পূর্বদিন অনুষ্ঠিত হয় গায়ে হলুদ। দেশীয় ঐতিহ্যে সাজানো আয়োজনে অংশ নেন দুই পরিবারের সদস্যরা। লাল বেনারসি শাড়িতে সজ্জিত কনে এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকে বরকে ঘিরে ছিল আনন্দঘন পরিবেশ। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সাত পাকে আবদ্ধ হন নবদম্পতি; পরে বর সিঁদুর পরিয়ে দেন কনের সিঁথিতে।
সুকান্ত সেন রাজনগরের টিকরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য চীনে পাড়ি জমান এবং সেখানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক সূত্রে পরিচয় হয় ক্রিস হুইয়ের সঙ্গে। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে রূপ নেয় তাদের পথচলা। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে চীনে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে পারিবারিক ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য বাংলাদেশে আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠান।
বিয়েতে কনের পরিবারের সদস্যরাও চীন থেকে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আন্তর্জাতিক এ সম্পর্ককে ঘিরে এলাকায় এক ভিন্ন আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল এ আয়োজন।
নবদম্পতির এ বন্ধন দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।