হলুদ আর সবুজের মিলনে গাইবান্ধায় আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে। গাছের সমস্ত ডালপালা জুড়ে আম্র মুকুল লক্ষ্য করা গেছে। আম্র মুকুলের মৌ মৌ সৌরভ ভাসছে বাতাসে। গ্রাম-গঞ্জে-শহরে যেখানেই আমগাছ সেখানেই মুকুলের ঘ্রাণ। জেলায় এখন পর্যন্ত এমন কোন আমগাছ নেই, যে গাছে মুকুল আসেনি। আম্র মুকুল মৌমাছি এবং ছ্ট্টো পাখিরা যেন ত্রয়ী মিলনে আনন্দে একাকার। সেই সাথে আমের মুকুলের হলুদ ছোঁয়া নবরুপে সাজিয়েছে গাইবান্ধার প্রকৃতিকে। বসন্তে তাপমাত্রার সঠিক ভারসাম্য এবং আদ্রতার অনুকূল সমন্বয়ের কারণে এবার মুকুল আসার হার অত্যন্ত সন্তোষজনক। মৌসুমের শুরুতেই অনুকুল আবহাওয়া বাম্পার ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলন অনেকটা নির্ভর করবে আসন্ন দিনগুলোতে ক্ষরা, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবের উপর।
পৃথিবীতে জনপ্রিয় ফলের একটি আম ফল। আম পছন্দ করেনা এমন লোক পাওয়া কঠিন। আমকে ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Mangifera indica। চীন পর্যটক হিউয়েন সাঙ ৬৩২ থেকে ৬৪৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে এ অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বাংলাদেশের আম বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত করেন। জানা যায়, মোঘল সম্রাট আকবর ভারতের শাহবাগের দাঁড়ভাঙ্গায় এক লাখ আমের চারা রোপণ করে উপমহাদেশের প্রথম একটি উন্নতজাতের আম বাগান সৃষ্টি করেন। আমের আছে বাহারী নাম, বর্ণ, গন্ধ ও স্বাদ। পৃথিবীতে প্রায় ৩৫ প্রজাতির আম আছে। আমের প্রায় কয়েক’শ জাত রয়েছে। যেমন ফজলী, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, খিরসাপাত, আম্রপলী, মল্লিকা, কাঁচামিঠা, বারোমাসী, সুবর্ণরেখা, গুঠলি, লখনা, সুর্যপুরী, কলাবতী, রূপালী ইত্যাদি। বাংলাদেশের রাজশাহী, নঁওগা, দিনাজপুর, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, চাপাইনবাবগঞ্জে বেশী পরিমাণে আম চাষ হয়। গাইবান্ধা জেলায় বাণিজ্যিক আকারে আম চাষ তেমন না হলেও ব্যাপক আম গাছ রয়েছে। বারি ৪, ১১, হাড়িভাঙ্গা, থাই কাার্টিমনসহ দেশীয় নানা জাতের আম চাষ হয়।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার আম চাষী মিঠু বলেন- আমার বাড়ীর আঙ্গিনায় উঠানে ও পরিত্যাক্ত জায়গায় অনেকগুলো আমগাছ রয়েছে। গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। আশাকরি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে আয় করত পারব ইনশাল্লাহ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাইবান্ধা উপপরিচালক মোঃ আজিজুল ইসলাম জানান গইবান্ধায় ৩৬০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয় এবং উৎপাদন ৪৭০৯ মে:টন আশা করা যায়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে আম চাষীদের। আবহাওয়াা অনুকুলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অতিরিক্ত কুঁয়াশা, খরা, অকালবৃষ্টিপাত তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তনে মুকুল ঝড়ে পড়ার আশংকা থাকে। সব মিলিয়ে মৌসুমের শুরুতেই মুকুলে ছেয়ে যাওয়া গাইবান্ধার আমবাগান নতুন আশার সঞ্চার করছে। চাষীরা বাম্পার ফলনের জন্য অনুকুল আবহাওয়া ও সঠিক মূল্য পেতে বাজার ব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে আছেন। পরিচর্চা ও অনুকুল আবহাওয়ার উপর এ বছর নির্ভর করবে আমের বাম্পার ফলন।