
X
সংগৃহীত ছবি
দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে জনপ্রিয় খল অভিনেতার সংখ্যা হাতেগোনা। যে’কজন আছেন, তাদের মধ্যেও অনেকে নিয়মিত ভিলেন ছিলেন না। যারা কেবল ভিলেন হয়েও দর্শক মনে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম মিজু আহমেদ। খল অভিনয়ে ছিল তার বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার। আট শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করা এই খ্যাতিমান তারকার মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ ঢাকা থেকে ট্রেনে করে ‘মানুষ কেন অমানুষ চলচ্চিত্রের’ শুটিং করতে দিনাজপুর যাচ্ছিলেন মিজু আহমেদ। সেই ট্রেন যাত্রাতেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন মিজু আহমেদ। তার পারিবারিক নাম মিজানুর রহমান। তবে তিনি মিজু আহমেদ নামেই সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং খ্যাতি অর্জন করেছেন।
মিজু আহমেদ ছিলেন আপাদমস্তক অভিনয়শিল্পী। শৈশবেই তিনি যুক্ত হয়েছিলেন থিয়েটারে। কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলে অভিনয় করেছেন তিনি।
১৯৭৮ সালে মিজু আহমেদের চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয় ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি ঢালিউড চলচ্চিত্র শিল্পে অন্যতম সেরা একজন খলনায়ক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
মিজু আহমেদ অভিনীত সিনেমার তালিকা বিশাল বড়। সেই তালিকা থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হচ্ছে- তৃষ্ণা (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), মহানগর (১৯৮১), নয়নের আলো (১৯৮৪), অশান্তি (১৯৮৬), সারেন্ডার (১৯৮৭), সত্য মিথ্যা (১৯৮৯), বোনের মত বোন (১৯৮৯), স্ত্রীর পাওনা (১৯৯১), দাঙ্গা (১৯৯১), পিতা মাতা সন্তান (১৯৯১), চাকর (১৯৯২), বন্ধু আমার (১৯৯২), সোলেমান ডাঙ্গা (১৯৯২), ত্রাস (১৯৯২), ত্যাগ (১৯৯৩), দেশপ্রেমিক (১৯৯৪), খলনায়ক (১৯৯৬), বশিরা (১৯৯৬), আজকের সন্ত্রাসী (১৯৯৬), হাঙর নদী গ্রেনেড (১৯৯৭), অন্ধ ভালোবাসা (১৯৯৭), কুলি (১৯৯৭), আম্মাজান (১৯৯৯), লাঠি (১৯৯৯), লাল বাদশা (১৯৯৯), গুণ্ডা নাম্বার ওয়ান (২০০০), ঝড় (২০০০), কষ্ট (২০০০), বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০), যোদ্ধা (২০০০), ওদের ধর (২০০২), ইতিহাস (২০০২), লাল দরিয়া (২০০২), ভাইয়া (২০০২), কারাগার (২০০৩), হিংসা প্রতিহিংসা (২০০৩), বিগ বস (২০০৩), আজকের সমাজ (২০০৪), মহিলা হোস্টেল (২০০৪) ও হীরা আমার নাম (২০০৫) ইত্যাদি।
নিজেকে কেবল অভিনয়েই সীমাবদ্ধ রাখেননি মিজু আহমেদ। তিনি সিনেমা প্রযোজনাও করেছেন। ফ্রেন্ডস মুভিজ নামে তার একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখান থেকে বেশ কয়েকটি সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক এবং দুই মেয়াদে সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন।
১৯৯২ সালে ‘ত্রাস’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য মিজু আহমেদ শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০১০ সালে ‘ওরা আমাকে ভাল হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
পারিবারিক জীবনে মিজু আহমেদ পারভীন আহমেদকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির রয়েছে তিন সন্তান। দুই মেয়ে কেয়া ও মৌ এবং ছেলে হারশাত।
রূপালি পর্দায় দর্শকরা তাকে নিন্দিত চরিত্রে দেখলেও প্রকৃতপক্ষে মিজু আহমেদ ছিলেন একজন নীতিবান ও সৎ মানুষ। তিনি বিপদে-আপদে সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন মিজু আহমেদ। নন্দিত এই অভিনেতার প্রয়াণের দিনে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।