
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফুয়েল সংকট ও অনিয়ম ঠেকাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ফিরোজ হোসেন। তার কঠোর নির্দেশনা ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলে এখন ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরেছে, স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
সরেজমিনে ভালুকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ইউএনও’র নির্দেশনা বাস্তবায়নে মালিকরা এখন অনেক বেশি সতর্ক। অনিয়ম বন্ধে প্রতিটি স্টেশনে চলছে নজরদারি, ফলে আগের মতো হঠাৎ তেল সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ কমে এসেছে।
ইউএনও’র জারি করা নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—যথাযথ কাগজপত্র ছাড়া কোনো মোটরসাইকেল বা গাড়িতে ফুয়েল দেওয়া যাবে না। অনুমোদন ছাড়া ড্রাম, জারিক্যান বা অন্য কোনো পাত্রে তেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিবার ফুয়েল নেওয়ার সময় পূর্বের রশিদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেউ মজুদ বা খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তেল নেওয়ার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত ফুয়েল থাকা সাপেক্ষে সকলকে পরিমিত পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক হক মৃধা বলেন, “প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার কারণে এখন আমরা নির্বিঘ্নে ফুয়েল বিক্রি করতে পারছি। ইউএনও এবং এসিল্যান্ড মহোদয়রা নিয়মিত মনিটরিং করছেন, এতে অনিয়মের সুযোগ কমেছে।”
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ হোসেন বলেন, “ফুয়েল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কালোবাজারি বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে স্বাভাবিকভাবে তেল পেতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, ইউএনও’র এই সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে ভালুকায় ফুয়েল বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষ এখন অনেকটাই স্বস্তিতে রয়েছেন।