
X
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে রহস্যজনক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র জানালার গ্রীল কেটে কক্ষে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র তছনছ করে এবং সিসি ক্যামেরার সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে যায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কক্ষ লক্ষ্য করে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা কক্ষের আলমারি ও ড্রয়ার ভেঙে ভেতরের কাগজপত্র এলোমেলো করে ফেলে।
রোববার সকালে বিষয়টি প্রথম নজরে আসে হাসপাতালের চিকিৎসকদের। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কনসালটেন্ট ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, সকালে অফিসে এসে সংশ্লিষ্ট কক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায় জানালার গ্রীল কাটা এবং কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আশ্চর্যের বিষয় হলো- হাসপাতালের অন্য কক্ষগুলোতে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে হাত দেওয়া হয়নি, শুধুমাত্র সিসি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর ও রাউটার চুরি হয়েছে। এতে করে ঘটনাটি পরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, সকালে অফিসে এসে দরজা ভেঙে কক্ষে ঢুকে জানালার গ্রীল কাটা এবং আলমারি-ড্রয়ার খোলা অবস্থায় দেখতে পান। কক্ষের ভেতরে থাকা সিসি ক্যামেরার মনিটর, ডিভিআর ও রাউটার চুরি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময় এই ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি থানায় জানানো হয়েছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করছে। এ বিষয়ে জুলফিকার আলি (ওসি অপারেশন) জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রশংসা পেলেও কিছু মহলের অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। ফলে এ ধরনের ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন তারা।
সচেতন মহল মনে করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো এবং সিসি ক্যামেরা নজরদারি আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে।