নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাকিস্তান প্রত্যাবাসন প্রত্যাশী অ-বাঙালি (উর্দুভাষী) জনগোষ্ঠীর বসবাসরত প্রায় ২০-২২টি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় এ বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমেছে বলে জানিয়েছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)।
নেসকো সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম জানান, ক্যাম্পগুলোতে স্থাপিত ২৪টি মিটারের বিপরীতে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।
নেসকো সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে উর্দুভাষী বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার পান। ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্যাম্পবাসীদের নিজস্বভাবে বিল পরিশোধের কথা থাকলেও এরপর থেকে আর কোনো বিল পরিশোধ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বৈধ সংযোগ থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পগুলোতে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে। একাধিক স্থানে তার টেনে শত শত অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে নেসকো।
এ বিষয়ে এক ক্যাম্পবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা নিম্নআয়ের মানুষ, এত বড় অঙ্কের টাকা পরিশোধ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’
আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করব, তাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দিই না।’
উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, ‘আমরা একসময় আদালতে গিয়েছিলাম, তখন সরকার বকেয়া বিল পরিশোধ করবে বলা হয়েছিল, কিন্তু তা হয়নি। হঠাৎ বিদ্যুৎ বন্ধ করলে ক্যাম্পে মানবিক সংকট তৈরি হবে।’
অন্যদিকে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম বলেন, বকেয়া আদায় ও সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে প্রায়ই বাধা ও হামলার মুখে পড়তে হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন।