
X
রুনা লায়লা
অস্ট্রেলিয়ায় গান শোনাতে যাচ্ছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও সুরকার রুনা লায়লা এবং ইমন চৌধুরী ও তার গানের দল ‘বেঙ্গল সিম্ফনি’। আগামী ১ ও ৮ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত হবে দুটি কনসার্ট। মেলবোর্নের এই কনসার্টে অংশ নেওয়ার জন্য দর্শকদের উদ্দেশে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন রুনা লায়লা ও বেঙ্গল সিম্ফনির সদস্যরা।
১ আগস্ট সিডনির নরওয়েস্ট কনভেনশন সেন্টারে লিসেন ফর আয়োজন করেছে ‘বাংলাদেশ নাইট’ শীর্ষক কনসার্ট। এতে রুনা লায়লা ও বেঙ্গল সিম্ফনির সঙ্গে আরও গান শোনাবেন পিন্টু ঘোষ। অন্যদিকে ৮ আগস্ট রিসাইটাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে ‘রুনা লায়লা অ্যান্ড সিম্ফনি লিগাসি ট্যুর’ শিরোনামের আয়োজন। এটি আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ কালচারাল এক্সচেঞ্জ ইনক (এবিসিএক্স)। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে কনসার্ট দুটির অগ্রীম টিকিট বিক্রি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু একটি সাধারণ কনসার্ট নয়; হতে যাচ্ছে সারা জীবন মনে রাখার মতো এক মিউজিক্যাল অভিজ্ঞতা। রুনা লায়লার মতো কিংবদন্তি শিল্পী ও বেঙ্গল সিম্ফনি গেয়ে শোনাবে তাদের জনপ্রিয় গানগুলো। ভক্তদের জন্য এই আয়োজন হতে যাচ্ছে নস্টালজিয়ায় ডুবে যাওয়ার এক অনন্য সুযোগ।
এই দুই কনসার্টের সুবাদে প্রায় এক দশক পর অস্ট্রেলিয়ায় গান শোনাতে যাচ্ছেন রুনা লায়লা। সাত যন্ত্রশিল্পীকে নিয়ে আগামী ২৯ জুলাই সিডনির উদ্দেশে রওনা হবেন বলে জানান তিনি। রুনা লায়লা বলেন, ‘অনেক বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া হচ্ছে। এবারের কনসার্ট দুটি খুব বড় পরিসরে হচ্ছে। দর্শকের পছন্দের গান গাইব। আমি আশাবাদী, ভালো কিছু হবে। আয়োজকেরা আমাকে জানিয়েছেন, এরই মধ্যে টিকিট বিক্রিতে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।’
অস্ট্রেলিয়ায় সর্বশেষ কবে পারফর্ম করেছেন-এমন প্রশ্নে রুনা লায়লা বলেন, ‘অনেক বছর হয়ে গেল, প্রায় এক দশক। দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম তখন।’
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য সংগীতজীবনে বাংলা, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, উর্দু, সিন্ধি ও ইংরেজিসহ ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন রুনা লায়লা। সংগীতজীবনে অর্জন করেছেন অসংখ্য সম্মাননা ও স্বীকৃতি।
তিনি বলিউডের খ্যাতিমান সুরকার ও শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছেন, গোল্ড ডিস্ক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয়, মডেলিং এবং রিয়েলিটি শোর বিচারকের দায়িত্বও পালন করেছেন। মানবিক কাজেও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
রুনা লায়লা মোট আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। ‘দি রেইন’, ‘জাদুর বাঁশি’, ‘অ্যাক্সিডেন্ট’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেবদাস’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ ও ‘তুমি আসবে বলে’ সিনেমায় গান গেয়ে সেরা গায়িকা হিসেবে এই স্বীকৃতি পান। এছাড়া ‘একটি সিনেমার গল্প’ ছবির জন্য শ্রেষ্ঠ সুরকার হিসেবেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের বহু সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন রুনা লায়লা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ‘হাম দোনো’, ‘রিশতা হ্যায় পেয়ার কা’, ‘কমান্ডার’, ‘আন্দালিব’, ‘নসীব আপনা আপনা’, ‘দিল অউর দুনিয়া’, ‘উমরাও জান আদা’, ‘আনমোল’, ‘নাদান’, ‘দিলরুবা’সহ আরও বেশকিছু সিনেমায় গান গেয়েছেন তিনি।
১৯৭০ সালের ২৯ মে মুক্তিপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম পরিচালিত সিনেমা ‘স্বরলিপি’-তে প্রথম বাংলাদেশের সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেন রুনা লায়লা। এ সিনেমার ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি তুমুল জনপ্রিয়তা পায়। প্রথম প্লে-ব্যাকেই ব্যাপক সাড়া ফেলেন । বাংলাদেশের সিনেমার গানেও তার কণ্ঠের কদর বেড়ে যায়।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে এসে রুনা লায়লা একে একে ‘জীবন সাথী’, ‘টাকার খেলা’, ‘কাজল রেখা’, ‘রং বেরং’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘সুন্দরী’, ‘দেবদাস’, ‘চাঁদনী’, ‘দোলনা’, ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’,, ‘অন্ধপ্রেম’, ‘দোলা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’, ‘পাঙ্কু জামাই’, ‘দুই দুয়ারী’সহ আরও বহু সিনেমায় গান গেয়ে শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করেছেন তিনি।
বেঙ্গল সিম্ফনির ইমন চৌধুরী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার এই কনসার্ট নিয়ে আমরা খুব এক্সাইটেড। অসাধারণ ভেন্যুতে সাজানো হয়েছে এই আয়োজন। ‘কথা কইও না’, ‘বাজি’, ‘সাদা সাদা কালা’, ‘টেকা পাখি’সহ দর্শক-শ্রোতাদের প্রিয় গান পরিবেশন করার ইচ্ছা আছে। আশা করছি প্রাণবন্ত একটি আয়োজন হতে যাচ্ছে।’