
X
সংগৃহীত ছবি
ফুটবল আর সংগীত দুটি যেন একই আবেগের ভিন্ন প্রকাশ। মাঠের উত্তেজনা, দর্শকদের উন্মাদনা আর কোটি মানুষের অনুভূতিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান। প্রতি আসরেই নতুন গান নিয়ে হাজির হয় ফিফা, যা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। ‘ওয়াকা ওয়াকা’, ‘দ্য কাপ অব লাইফ’ কিংবা ‘উই আর ওয়ান’- এসব গান এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দর্শকপ্রিয় ১০ গানের তালিকা প্রকাশ করেছে ইএসপিএন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা এই ১০ গান নিয়ে আজকের প্রতিবেদন।
ওয়াকা ওয়াকা, শাকিরা : গানটিকে ফুটবল বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা গান হিসেবে বিবেচনা করেন অনেকে। আফ্রো-পপের সুর ও ছন্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি গেয়েছেন শাকিরা। গানটি শুধু ২০১০ বিশ্বকাপ নয়, পুরো বিশ্বকাপেরই একধরনের প্রতীকী সংগীতে পরিণত হয়। গানটিতে রুম্বা, সোকা ও ক্যামেরুনের মাকোসা সংগীতের উপাদান সুন্দরভাবে মিশে গেছে। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও শ্রুতিমধুর গান।
‘কাপ অব লাইফ’ (লা কোপা ডে লা ভিদা), রিকি মার্টিন : ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে গানটি গেয়েছিলেন রিকি মার্টিন। গানটি রিকির ক্যারিয়ারকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। গানটি দুনিয়াজুড়ে সমাদৃত হয়েছিল। এখনো অনেকে গুনগুন করে গেয়ে ওঠেন এই গান। গানটির মূল কথা ছিল, জয়ের স্বপ্ন, বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা আর বিশ্বকাপ জেতার আবেগ। ‘কাপ অব লাইফ’ গানটি পরবর্তী অনেক বিশ্বকাপ গানের জন্য এক ধরনের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। শক্তিশালী কোরাস, স্মরণীয় ব্রাস সুর আর উৎসবমুখর পরিবেশের কারণে গানটি আজও জনপ্রিয়।
গ্লোরি ল্যান্ড, ড্যারিয়েল হল ও সাউন্ডস অব ব্ল্যাকনেস : একটি ঐতিহ্যবাহী সংগীতের আবহে তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের গান। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের জন্য গানটি লেখেন ড্যারিয়েল হল, সুরারোপও করেন তিনি। গানটির যন্ত্রসংগীত নিয়ে সমালোচনা হলেও ড্যারিয়েল হলের কণ্ঠের জোর গানটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়েছে। গানটি এখনো শ্রোতাদের হৃদয়ে আলোড়ন তোলে।
উই আর ওয়ান (ওলে ওলা), পিটবুল ও জেনিফার লোপেজ : ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসেছিল ব্রাজিলে। ব্রাজিলের ছন্দময় ফুটবলের ছাপ পড়েছিল সেবারের গানে। এক বিশ্বকাপেই সেবার নয়টি গান প্রকাশিত হয়েছিল। সবচেয়ে আলোচিত ছিল অফিশিয়াল গান ‘উই আর ওয়ান’। ইংরেজি, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ তিন ভাষায় তৈরি হয় গানটি। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গানটির মনোজ্ঞ উপস্থাপনা বেশ নজর কেড়েছিল সেবার।
‘ডাই ডাই’, শাকিরা ও বার্না বয় : ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আসর বসছে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। গানটি গত ১৫ মে প্রকাশিত হয়েছে। গানটি গেয়েছেন কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বার্না বয়। তবে গানটি শাকিরার বিখ্যাত ‘ওয়াকা ওয়াকা’র ধারেকাছেও যেতে পারেনি। গানটি অনেকটাই ম্লান। ইউএসপিএন লিখেছে, গানটি কিছুটা একঘেয়ে, তবে উচ্ছ্বাসের আবহ রয়েছে। এই গ্রীষ্মে মেক্সিকো, কানাডা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের গ্যালারিতে এটি সমস্বরে গাওয়া হবে, এমনটা কল্পনা করা কঠিন। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রকাশিত সবচেয়ে বাজে গানগুলোর মধ্যে এটি পড়ে না।
‘বুম’, আনাস্তাসিয়া : ‘বুম’ গানটি ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ছিল। এটি একটি মাঝারি গতির উৎসাহমূলক গান, যেখানে সাফল্য, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্ন পূরণের মতো সাধারণ কথা বলা হয়েছে। গানের চেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল এর মিউজিক ভিডিও। সেখানে কিছু সাধারণ মানুষকে হঠাৎ ভিনগ্রহের প্রাণীরা তুলে নিয়ে যায়- এটাই ছিল ভিডিওটির মজার ও অদ্ভুত অংশ। ২০০২ বিশ্বকাপে গানটি খুব বেশি জনপ্রিয় না হলেও ইউরোপের কিছু দেশের সংগীত তালিকায় (চার্টে) ভালো জায়গা পেয়েছিল, ইতালিতেও কিছুটা পরিচিতি পেয়েছিল।
‘দ্য টাইম অব আওয়ার লাইভস’, ডিভো ও টনি ব্র্যাক্সটন : ২০০৬ বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবাম থেকে নেওয়া এই গান ছিল আসরের আনুষ্ঠানিক সংগীত। অ্যালবামটিতে ইতিহাসের অনেক জনপ্রিয় শিল্পীর গান থাকলেও মূল সংগীতটি ছিল ধীরগতির ও আবেগঘন একটি ব্যালাড। এখানে কণ্ঠ মিলিয়েছে টনি ব্র্যাক্সটন ও পপ-অপেরা দল ডিভো।
‘আনয়েস্তাতে ইতালিয়ানো’(টু বি নাম্বার ওয়ান); এদোয়ার্দো বেনেট্টো ও জিয়ান্না ন্যান্নিনি : ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের এই গানের ভিডিও এখনো বেশ জনপ্রিয়। নব্বই দশকের ফুটবল উত্তেজনার রেশ পাওয়া যায় গানটিতে। ইতালীয় ও ইংরেজি ভাষায় লেখা হয়েছিল গানটি। গানটিতে বিশ্বকাপ সংগীতের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই আছে- উদ্দীপনাময় সুর, আবেগঘন কণ্ঠ। গানের ইতালীয় সংস্করণটি দেশটির চার্টে এক নম্বরে উঠেছিল। পাশাপাশি স্প্যানিশ ও ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশ করা হয়।
‘হাইইয়া হাইইয়া’(বেটার টুগেদার); ত্রিনিদাদ কার্ডোনা, ডাভিদো ও আইশা : ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের গানটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। আরবি ভাষায় গানের শিরোনামের অর্থ ‘চলো, চলো!’। গানের কথায় ফুটবল বা বিশ্বকাপের সরাসরি কোনো উল্লেখ নেই। ফলে ‘লিভ ইট আপ’-এর মতো বিরক্তিকর না হলেও গানটি এতটাই হালকা যে শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো ছাপ ফেলতে পারেনি।
‘লিভ ইট আপ’; নিকি জ্যাম, উইল স্মিথ ও এরা ইস্ত্রেফি : তালিকার সবচেয়ে নিচে রয়েছে ‘লিভ ইট আপ’। গানটি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের। বিশ্বকাপ রাশিয়ায় হলেও গানটিতে লাতিন আবহ ছিল। গানটি খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। সাদামাটা কথার সঙ্গে ফুটবল বা বিশ্বকাপের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক খুঁজে পাননি শ্রোতারা।