প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১০৭)

X
জাহের আলভী ও স্ত্রী ইকরা
‘‘আমি (আলভী) এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি, স্ত্রীর শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমি কাজে (অভিনয়ে) ফেরার জন্য জামিন চাচ্ছি না। আমার সন্তান তার মাকে হারিয়ে, তাকে এখন সাপোর্ট দেওয়া দরকার।’’
আজ বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীরের আদালতে এভাবেই বলছিলেন অভিনেতা মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূইয়া ওরফে জাহের আলভী।
স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় অভিনেতা আলভীর রিমান্ড বিষয়ে শুনানি ছিলো আজ। রিমান্ড শুনানিকালে আদালতকে উদ্দেশ্য করে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রথমে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘‘ভিকটিম ইকরা জানতে পারেন আলভী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে আসামি ভিকটিমকে বলে আসছেন, ‘তুই মরে যা, তুই মরলে আমার কিছুই যায় আসে না।’ ভিকটিমকে এরকম নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন আসামি। সর্বশেষ সামাজিক যোগাযোগ মধ্যে একটি পরনারীর ছবি দিয়ে উস্কানিমূল পোস্ট দেন। ভিকটিম সেটা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেন।’’
রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘‘ইকবার মৃত্যুর পেছনে আসামির হাত থাকতে পারে। আলভীর কো-আর্টিস্ট তিথি নিজের হাতে মেহেদী দিয়ে লেখা আলভীর নামসহ ফেসবুক পোস্ট করেন। ভিকটিমের বিবাহ বার্ষিকীর দিনে আসামি অন্য মেয়ের সঙ্গে নেপাল ঘুরতে যান। কো-আর্টিস্টের হাতের এই লেখা ভিকটিম কখনও মেনে নিতে পারেননি৷ এ কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আসামির সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করছি।’’
আইনজীবী আদালতকে ইকরার দেওয়া একটি হলফনামা পরে শোনান। হলফনামায় ইকরাকে তার বাবা মা জোর করে আরেকটি বিয়ে দেন বলে লেখা আছে জানান এই আইনজীবী। এ সময় আলভীর পক্ষের আরেক আইনজীবী তাকে রিমান্ডে না নিয়ে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান।
পরে আলভী আদালতকে কিছু বলতে চাওয়ার অনুমতি চান। আদালত অনুমতি দিলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি যে, স্ত্রীর শোক পালন করবো নাকি মামলার প্রসিডিওর মেইনটেইন করবো জানি না। আমার এবং ইকরার রিলেশন খুব স্মুথ ছিল। সুইসাইড করার মত কিছু ঘটেনি। সংসার জীবনে ছোটোখাট মনোমালিন্য হয়। আমি মিডিয়ায় কাজ করি এখানে আমার শুভাকাঙ্খী আছে যেমন হেটার্সও আছে। তারা একটা এআই জেনারেটেড মেহেদী ওয়ালা ছবি দিয়ে মিথ্যা প্রচারণা করেছে। সেই মেহেদীওয়ালা আসল ছবিটা আমার আইনজীবীর কাছে আছে।’’
তিথির সঙ্গে নেপালে গিয়ে জন্মদিনের কেক কাটা প্রসঙ্গে আলভী বলেন, ‘‘আমি ৬টা নাটকের শুটিংয়ে প্রডাকশনের সঙ্গে নেপাল গেছি। এটা আমার কাজ। সেখানে শুধু তিথি না, প্রডাকশনের সবাই ছিল। আমি ন্যায় বিচার চাই।’’