
X
ভারতের দুই পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য
ভারতের দুই পর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। চওড়া লাল পাড়ের শাড়ি, নাকে নথ, হাত ভর্তি চুড়ি, গলায় সোনার হার—বরাবর তাকে এমন বেশে দেখেই অভ্যস্ত তার ভক্তরা। কিন্তু এই খোলস ছাড়িয়ে সুইম স্যুট পরে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন।
শাড়ি কিংবা সুইম স্যুট—উভয় ধরনের পোশাক পরেই নেটিজেনদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন ৪৮ বছর বয়সি এই অভিনেত্রী। তার বয়স নিয়েও সমালোচনা কম হয়নি।
শনিবার (২৭ জুন) অপরাজিতা আঢ্য তার সোশ্যাল মিডিয়ায় লাল শাড়ি ও গাঢ় রঙের লিপস্টিক পরা ‘বোল্ড’ ছবি পোস্ট করে সমাজের তথাকথিত ‘বয়সের খাঁচা’ ও দ্বিচারিতাকে এক হাত নিলেন অপরাজিতা। চল্লিশ পেরোলেই সমাজ যখন একজন নারীকে ‘বুড়ি’ তকমা দিয়ে তার শখ-আহ্লাদকে অবসরে পাঠাতে চায়, ঠিক তখনই গর্জে উঠলেন এই অভিনেত্রী।
এ বিষয়ে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “চল্লিশ ছুঁলেই সবাই বলে, ‘উফ! বুড়ি হয়ে গেলে!’ আমি বলি, ‘বেশ তো ভাই, বয়সটা কি ফ্রিজে রেখে দেব নাকি?’ চুলে দুটো সাদা রং, মুখে দু-চারটে ভাঁজ, তাতেই যেন সমাজের চোখে আমি পুরোনো এক সাজ!”
একগুচ্ছ প্রশ্ন সকলের সামনে ছুড়ে দিয়ে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “মজার কথা শুনবে? বয়স বাড়লে কি ইমএমআই কমে? সংসারের চিন্তা থামে? সকালের রান্না নিজে হয়? নাকি কাপড়গুলো নিজেই কাচে? বয়স বাড়লে কি সন্তানের দায়িত্ব কমে? মায়ের চিন্তা ফুরোয়? বাড়ির হিসেব মেটে? না, কিছুই তো কমে না! শুধু বাড়ে মানুষের উপদেশ—‘এত লাল শাড়ি কেন? এত সাজো কেন? এই বয়সে নাচ? এই বয়সে প্রেমের গান? আরে বাবা, বয়স কি বিদ্যুতের বিল, যে নির্দিষ্ট দিনে কেটে যাবে রং?”
চল্লিশে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন অপরাজিতা আঢ্য। আর সেই উপলদ্ধি ব্যাখ্যা করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি তো সেই মানুষ, শুধু অভিজ্ঞতা একটু বেশি, হাসিটা একটু গভীর, কান্নাটা একটু চুপচাপ, আর নিজেকে ভালোবাসাটা আগের চেয়ে অনেক বেশি। কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, ত্রিশে হয়েছি নদী, চল্লিশে এসে বুঝেছি—আমি আসলে সমুদ্র! আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস।”
সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কড়া ভাষায় অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “তাই শোনো সমাজ, বয়স বাড়া অপরাধ নয়, অপরাধ হলো—একজন নারীর বয়স দেখে তার রঙিন মনটাকে অবসর দিয়ে দেওয়া। আমি বুড়ি নই, আমি পরিণত। আমি শেষ নই, আমি পূর্ণ। আর যদি লাল শাড়ি পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়ে, হেসে একটা ছবি তুলি—তাহলে জেনে রেখো, আমি বুড়ি হইনি, আমি জীবনটাকে উদযাপন করছি! কারণ নারী বুড়ো হয় না, নারী শুধু প্রতি বছর আরো একটু গল্প হয়ে ওঠে।”
একান্নবর্তী পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অপরাজিতা আঢ্যর। মাত্র ১৯ বছর বয়সে টলিউডের সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার অতনু হাজরাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও পেয়েছেন একান্নবর্তী পরিবার। বায়োলজিক্যাল সন্তানের মা না হলেও অপরাজিতার একটি পাতানো মেয়ে রয়েছে। তার নাম গার্গি। সে পেশায় ব্যাংকার। অপরাজিতা-অতনুকে মা-বাবা বলে ডাকেন। গার্গির আসল বাড়ি হাওড়ায়। ১৬-১৭ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের বাবা-মায়ের কাছেই থাকতেন। তারপর চলে আসেন অতনু-অপরাজিতার কাছে। গার্গির বয়স এখন ৩২ বছর।
১৯৯৮ সালে ‘শিমুল পারুল’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় নাম লেখান অপরাজিতা। অভিনয় ক্যারিয়ারে অনেক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘চুপ কথা’, ‘গয়নার বাক্স’, ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’, ‘বেলা শেষে’, ‘প্রাক্তন’, ‘সমান্তরাল’ প্রভৃতি।