প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৯ পিএম (ভিজিট : ৩৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
ভারতীয় এক নারী পাসপোর্টধারী যাত্রীকে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে দুই দিন নোম্যান্সল্যান্ডে বসিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী লিপিকা পাল (৪৩) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তার পাসপোর্ট নম্বর ইউ-২৬২২০৭৪।
ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, লিপিকা পাল গত ১৫ জুন বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন। প্রায় ২৭ দিন আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি গত ১২ জুলাই নিজ দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্টে আসেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর দুপুর দেড়টার দিকে তিনি ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে প্রবেশ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনের একটি ডেস্কে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর কর্তব্যরত কর্মকর্তা তাকে জানান, তিনি নাকি একজন বাংলাদেশি নাগরিক। এরপর তার ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে ইমিগ্রেশন অফিসে বসিয়ে রাখা হয়।
পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে তাকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডের ভারতীয় অংশের প্যারেড গ্যালারিতে রাখা হয়। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তিনি সেখানে রাত কাটাতে বাধ্য হন বলে জানা গেছে।
পরদিন ১৩ জুলাইও তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। পরে দুপুর ১২টার দিকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, “গত রবিবার পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ আমাকে জানায়, বাংলাদেশি এক নারী ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। তারা ওই নারীকে ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানায়। জবাবে আমি বলেছি, তিনি বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং স্বাভাবিক নিয়মেই নিজ দেশে ফিরছেন। তাকে ফেরত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই।”
ঘটনাটি নিয়ে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বৈধ ভারতীয় পাসপোর্টধারী একজন যাত্রীকে বাংলাদেশি সন্দেহে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা এবং নোম্যান্সল্যান্ডে রাত কাটাতে বাধ্য করার ঘটনায় মানবিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।