প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম (ভিজিট : ২৫)

X
সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে শুক্রবার মঞ্চস্থ হলো বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলের সপ্তম প্রযোজনা ‘মৃত্যুহীনপ্রাণ’। প্রখ্যাত নাট্যকার উৎপল দত্তের বহুল আলোচিত একাঙ্ক নাটক ‘মৃত্যুর অতীত’ অবলম্বনে নির্মিত এ নাটকের নবনাট্যায়ন ও নির্দেশনা দিয়েছেন মিথুন মোস্তফা।
আলোক ও সংগীত পরিকল্পনায় ছিলেন আসিফ মুনীর। সমসাময়িক রাজনৈতিক নাট্যচর্চার প্রেক্ষাপটে ‘মৃত্যুহীনপ্রাণ’ দর্শক ও নাট্যবোদ্ধাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। উৎপল দত্তের নাট্যভাবনার কেন্দ্রীয় বিষয়- মার্কসবাদী দর্শন, শ্রেণিসংগ্রাম, রাষ্ট্রক্ষমতার বৈপরীত্য এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ- সমকালীন নাট্যভাষায় নতুন ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করেছেন নির্দেশক।
নাটকটিতে মৃত্যু কেবল জৈবিক পরিণতি নয়, বরং ক্ষমতার কাঠামো, সামাজিক বাস্তবতা এবং মানুষের অস্তিত্ব সংকটের শক্তিশালী রূপক হিসেবে উঠে এসেছে। মৃত্যুর পরবর্তী বাস্তবতাকে অলৌকিকতার আশ্রয়ে নয়, বিদ্যমান সমাজব্যবস্থার অসঙ্গতি ও বৈপরীত্য উন্মোচনের নাট্যকৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মঞ্চায়নেও ছিল স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী।
ব্রেখটীয় এপিক থিয়েটারের বিভিন্ন কৌশল, বিশেষ করে এলিয়েনেশন এফেক্ট ও ব্রেকিং দ্য ফোর্থ ওয়াল সচেতনভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। ফলে দর্শক শুধু আবেগে নিমজ্জিত না থেকে নাটকের রাজনৈতিক ও দার্শনিক বক্তব্যকে সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে উপলব্ধি করার সুযোগ পেয়েছেন। শিল্পীদের সরাসরি দর্শকের সঙ্গে সংলাপ, দলগত অভিনয়ের সমন্বয়, দৃশ্যান্তরের ছন্দ, প্রতীকী উপস্থাপন এবং মঞ্চ ব্যবহারে নির্দেশকের মুন্সিয়ানা প্রশংসিত হয়েছে।
প্রযোজনাটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেহেরান তিথির মঞ্চে আনুষ্ঠানিক অভিষেক। ‘মৃত্যুহীনপ্রাণ’-এ প্রথমবারের মতো মঞ্চে অভিনয় করেই তিনি দর্শকের নজর কাড়েন। নবাগত হলেও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, সংলাপ পরিবেশন এবং চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে।
এদিকে, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদল জানিয়েছে, মেহেরান তিথি শিগগিরই উৎপল দত্তের আরেকটি আলোচিত নাটক ‘উন্মোচন’-এ ‘জুলেখা’ চরিত্রে অভিনয় করবেন। দলটির নতুন এ প্রযোজনা শিগগিরই মঞ্চে আসবে।
প্রদর্শনী শেষে দীর্ঘ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন। নাট্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, ‘মৃত্যুহীনপ্রাণ’ শুধু একটি নাট্যপ্রযোজনা নয়; সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও মানবিক সংকট নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি শক্তিশালী শিল্পভাষা।