
X
সংগৃহীত ছবি
ছাব্বিশের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনা-স্পেন মুখোমুখি হয়ে অপ্রত্যাশিত নানা মুহূর্তের জন্ম দিয়েছে। নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়াম ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হলেও প্রথমার্ধ ছিল গোল শূন্য।
খেলার ৪৫ মিনিট পর শুরু হয় হাফটাইম শো। বাহারি আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও বিশাল মঞ্চসজ্জায় পুরো স্টেডিয়াম উৎসবে রূপ নেয়। একে একে পপসংগীতের কিংবদন্তি ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার, কে-পপ সুপার গ্রুপ বিটিএসের পরিবেশনায় ডুবে যান দর্শকরা। স্ট্রিমার আইশোস্পিড তাদের বিশ্বকাপের ‘চ্যাম্পিয়নস’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে সমাপনী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অপেরা টেনর ক্রিস্টোফার ম্যাকিও ‘আমেরিকা দ্য বিউটিফুল’ গানের বিশেষ পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
স্টেডিয়ামের নিচের টানেল থেকে ম্যাডোনার নাটকীয়ভাবে মঞ্চে ওঠার মুহূর্তটি দর্শকদের চমকে দেয়। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোনালদো ও রোনালদিনিও। হাফটাইমে ম্যাডোনা তার জনপ্রিয় ‘মিউজিক’ গানটি পরিবেশন করেন।
এবারের টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী মঞ্চে একসঙ্গে পারফর্ম করেন কলম্বিয়ার পপ তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ান সংগীতশিল্পী বার্না বয়। তারাও সমাপনী মঞ্চে দর্শকদের মাতিয়ে তোলেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা শেষ করে ৩ বছরের বিরতির পর আবার একসঙ্গে বিশ্বমঞ্চে পারফর্ম করে। তাদের পরিবেশনা ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করে। কানাডিয়ান পপ তারকা জাস্টিন বিবার গিটার হাতে মঞ্চে পা রাখেন।
হাফটাইমে বিশ্বতারকাদের এই পারফরম্যান্স ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ড ধরে চলে- যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম। হাফটাইম শো নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (ইফাব)-এর নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট বিরতির সুযোগ পেয়ে থাকেন।
বিশ্বকাপের শেষ আসর উপভোগ করতে অনেক তারকা গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। কাইলি জেনার ও তার পার্টনার টিমোথি শ্যালামে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখেন। তাছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হলিউড ও সংগীতজগতের বহু পরিচিত মুখ। বিয়ন্সে ও জে-জেড, অভিনেত্রী আনিয়া টেইলর-জয় ও তার স্বামী ম্যালকম ম্যাকরে, জেসিকা আলবা, ড্যানি রামিরেজ, ডেভিড বেকহ্যাম, ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম প্রমুখ।
বিনোদনের পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসকেও তুলে ধরা হয় এই আয়োজনে। বিশ্বকাপের সর্বকালের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি পেলেকে স্মরণ করে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় তার ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। এরপর একদল শিশু সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন করে, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জনপ্রিয় চরিত্রগুলোকেও রাখা হয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে।
বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনকে ফুটবল ও বৈশ্বিক বিনোদন সংস্কৃতির এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে ফিফা। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি হাফটাইম শোও কোটি কোটি দর্শকের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস মহাকাব্যে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বখেতাব নিজেদের করে নিয়েছে স্প্যানিশরা। স্পেনের ঐতিহাসিক জয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবল ভক্তরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।