
X
সংগৃহীত ছবি
দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভারতীয় সিনেমার দাপুটে অভিনেতা প্রকাশ রাজ। রোববার দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান বিক্ষোভে যোগ দেন এবং সংহতি জানিয়ে সেখানে রাত কাটান তিনি।
সোমবার সকালে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন প্রকাশ রাজ। ভার্সেটাইল এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি সত্য বলতে ভয় পাই না। আমি মরার আগেই মরতে চাই না, আমি বেঁচে থাকতে চাই।’
ইউটিউব চ্যানেল দ্য রেড মাইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ রাজকে প্রশ্ন করা হয়-অতীতে অনুপম খের ও আমির খানের মতো বলিউড তারকারাও বিভিন্ন জনআন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বছরের পর বছর সমালোচনার মুখে পড়েও প্রকাশ রাজ সত্য কথা বলতে ভয় পান কি না? উত্তরে প্রকাশ রাজ বলেন, ‘মিথ্যা বলতে ভয় পাওয়া উচিত। সত্য কথা বলতে আবার কিসের ভয়? সত্যের পাশে দাঁড়ানো তো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। ভয় পাবই বা কাকে?’
১১ জুলাই জন্তর মন্তরে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন প্রকাশ রাজ। ছবিতে সোনম ওয়াংচুককে কেরালার সাবেক অর্থমন্ত্রী ড. টমাস আইজ্যাকের সঙ্গে মতবিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে নয়, বিবেকের তাড়নায় এসব করছেন বলে জানান প্রকাশ রাজ। তার ভাষায়, ‘অনেকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কার জন্য এসব করছেন? আমি দেশের জন্য করছি না, আমি নিজের জন্য করছি। আমার বিবেক একটাই।’
স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমরা যদি আম্বেদকর, গান্ধী বা ভগত সিংহের দিকে তাকাই, তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় আমাদের ত্যাগই বা কতটুকু? দেশের জন্য এতটুকু কষ্টও কি আমরা সহ্য করতে পারব না?’
রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যুতে প্রকাশ্যে মত প্রকাশের জন্য পরিচিত প্রকাশ রাজ অতীতেও বিভিন্ন আন্দোলন-প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। জন্তর মন্তরের এই সফরেও তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে সত্য বলার গুরুত্বের কথাই পুনর্ব্যক্ত করেন।
জন্তর মন্তরের ওই বিক্ষোভে প্রকাশ রাজের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমিও। গত ৬ জুন, থেকে দিল্লির জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং এ বিষয়ে জবাবদিহির দাবি জানিয়ে তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ২৮ জুন, সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলনটি আরো বেশি আলোচনায় আসে। গত ১৮ জুলাই, পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন করা হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।