
X
সংগৃহীত ছবি
বাংলা চলচ্চিত্রের বরেণ্য ও কিংবদন্তি অভিনেতা আহমেদ শরীফকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করতে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্রে তার অসামান্য অবদান, শক্তিশালী অভিনয়শৈলী এবং চলচ্চিত্র শিল্পে অনন্য ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আহমেদ শরীফ একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব।
ভিলেন, চরিত্রাভিনেতা কিংবা বহুমাত্রিক বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তার অভিনয়জীবনের অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শনী নয়, বাংলা সিনেমার কিংবদন্তিদের আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মানিত করাও এই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের আসরে আহমেদ শরীফকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে।
আগামী ২ আগস্ট নিউ ইয়র্কের জামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য ফেস্টিভ্যালের বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও প্রবাসের চলচ্চিত্র নির্মাতা, অভিনেতা-অভিনেত্রী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী এবং চলচ্চিত্রপ্রেমীরা উপস্থিত থাকবেন।
আহমেদ শরীফ অভিনীত প্রথম সিনেমার নাম ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’। সুভাষ দত্ত পরিচালিত এ সিনেমাতে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। খলনায়ক হিসেবে ১৯৭৬ সালে তিনি প্রথম অভিনয় করেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘বন্দুক’ সিনেমাতে। এ সিনেমা সুপারডুপার হিট হয়।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি আহমেদ শরীফ টেলিভিশনের জন্য কিছু নাটক-টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। ২০০১ সালে প্রথম নির্মাণ করেন টেলিফিল্ম ‘ক্ষণিক বসন্ত’। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য তিনি নির্মাণ করেন নাটক ‘ফুল ফুটে ফুল ঝরে’। তার সর্বশেষ নাটকের নাম ‘মাইরের ওপর ওষুধ নাই’, পরিচালনা করেন নাদের খান।
প্রিয়জন ফিল্মস এবং লেমন স্টুডিও যৌথভাবে আয়োজন করেছে এই বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। সার্বিক সহযোগিতায় থাকছে আমেরিকান বাংলাদেশি প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (এবিপিএ)। শর্টফিল্ম, ডকুমেন্টারি ফিল্ম এবং পূর্ণ দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এই তিনটি ক্যাটাগরিতে নির্মিত সকল বাংলা চলচ্চিত্র এখানে প্রদর্শিত হবে ৩০ জুলাই থেকে ৩ দিন । এবং সর্বক্ষেত্রে সেরাদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসরে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশীয় চলচ্চিত্রের গুণী শিল্পীদের সম্মানিত করার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মাননা বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য ও গৌরবকে বিশ্বমঞ্চে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
মূল আয়োজনের পূর্বে ৩দিন ব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীতে প্রথমদিন ৩০ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বিলাই’, তথ্যচিত্র ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সোহেল রানা বয়াতির ‘নয়া মানুষ’। দ্বিতীয়দিন ৩১ জুলাই প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইশপাইট’ ও ‘ঞযব ঊঃবৎহধষ ঔড়ঁৎহবু’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র মিশুক মনির ‘দেয়ালের দেশ’।
তৃতীয়দিন ১ আগস্ট প্রদর্শিত হবে জায়েদ খানের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আমেরিকান ড্রিম’ ও ‘ঈদ মোবারক’ এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, রাইসুল ইসলাম অনিকের ‘বিশ্বাস করেন ভাই’ ও প্রসূন রহমানের ‘শিকড়’। আর ২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে মূল আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্র তারকারা নিউ ইয়র্কে পাড়ি জমিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এটি প্রথম আসর হওয়ায় বিগত ৩ বছরের (২০২৩-২০২৫) সেরা চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা-অভিনেত্রী, সেরা পরিচালক, গায়ক-গায়িকা ও কলাকুশলীদের মধ্যে মোট ২০টি ক্যাটাগরিতে সেরাদের পুরস্কৃত করা হবে।
বাংলা চলচ্চিত্রের বিশ্বায়নে বিশেষ অবদানের জন্য বায়স্কোপ ফিল্মসকে এবং বাংলাদেশে সিনেমা হলের আধুনিকায়ন ও দর্শকদের আবার প্রেক্ষাগৃহমুখী করতে, আধুনিক প্রদর্শনব্যবস্থা চালু করতে এবং দেশীয় চলচ্চিত্রের বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় স্টার সিনেপ্লেক্সকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।