
X
সংগৃহীত ছবি
ছয় দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার। অবশেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে একক কনসার্ট করলেন রুনা লায়লা। শুক্রবার একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার কনসার্ট। সঙ্গে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। ৭৪ বছর বয়সেও তিনি যেভাবে গেয়েছেন, তাতে মুগ্ধ উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। ওই কনসার্ট নিয়ে অনেকেই ভালোলাগা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি নজরে পড়েছে রুনা লায়লারও। তাই ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিল্পী।
গতকাল এক ভিডিও বার্তায় রুনা লায়লা বলেন, ‘সবাইকে অনেক ধন্যবাদ, আমার প্রতি এত ভালোবাসা জানানোর জন্য। আমি সত্যিই সম্মানিত। বাংলাদেশে থাকতে পেরে, বাংলাদেশে গাইতে পেরে আমি গর্বিত; শুধু বাংলাদেশই নয়, ভারত এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা এমনই। অনেক মানুষ আমার ভক্ত, তাদের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি এতদূর এসেছি।’
শিল্পকলার কনসার্ট প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন, ‘কদিন আগে একটি কনসার্ট করেছি। এরপর থেকে যত মেসেজ ও মন্তব্য পেয়েছি, তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। আপনাদের জন্যই আমি গেয়ে যেতে চাই। কারণ আপনাদের আমি ভালোবাসি।
এটাও জানি, আপনারা আমাকে এবং আমার গানকে কতটা ভালোবাসেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেখানে কনসার্ট হয়েছে, সেখানে জায়গার সংকুলান হয়নি। ৭৫০ জনের বেশি মানুষের জায়গা ছিল না। আশা করছি, শিগগিরই আরো বড় পরিসরে কনসার্ট করব। যেখানে অনেক অনেক মানুষ উপস্থিত থাকতে পারবেন। সেরকম সুযোগ নিশ্চয়ই পাব, যেখানে সবার জন্য গাইতে পারব।’ রুনা লায়লার মন্তব্য থেকে অনুমান করা হচ্ছে, অচিরেই হয়তো ঢাকায় ফের কনসার্ট করবেন উপমহাদেশের এই কিংবদন্তি তারকা।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে রুনা লায়লা দশ সহস্রাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে পাকিস্তানে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতুসহ ১৮টি ভাষায় গান গেয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন উপমহাদেশের অন্যতম কিংবদন্তি শিল্পী হিসেবে।
সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন রুনা লায়লা। পেয়েছেন রেকর্ড সাত বার ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। ১৯৭৬ সালে ‘দি রেইন’, ১৯৭৭ সালে ‘যাদুর বাঁশি’, ১৯৮৯ সালে ‘অ্যাক্সিডেন্ট’, ১৯৯৮ সালে ‘অন্তরে অন্তরে’, ২০১২ সালে ‘তুমি আসবে বলে’, ২০১৩ সালে ‘দেবদাস’ এবং ২০১৪ সালে ‘প্রিয়া তুমি সুখী হও’ ছবিগুলোর জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন রুনা লায়লা।
২০১৬ সালে জিতেছেন জয়া আলোকিত নারী সম্মাননা। এছাড়াও ভারত থেকে লাভ করেছেন সায়গল পুরস্কার, সংগীত মহাসম্মান পুরস্কার, তুমি অনন্যা সম্মাননা এবং দাদা সাহেব ফালকে সম্মাননা। অন্যদিকে, পাকিস্তান থেকে পেয়েছেন নিগার পুরস্কার, ক্রিটিক্স পুরস্কার, দুই বার গ্রাজ্যুয়েট পুরস্কার এবং জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদক।
এদিকে রুনা লায়লা এবার গান শোনাতে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ১ আগস্ট সিডনি এবং ৮ আগস্ট মেলবোর্নে গাইবেন তিনি।