প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৯ পিএম (ভিজিট : ২)

X
পদ্মার ভাঙ্গন
শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলায় পদ্মানদীর ভাঙ্গনের ফলে লক্ষ-লক্ষ পরিবার ঘর-বাড়ী ছাড়া হয়েছে। পরবর্তীতে নড়িয়ার অধিকাংশ এলাকায় স্থায়ী বেরিবাধ হলেও পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা হয়নি জাজিরাতে। তবে, সম্প্রতি জাজিরায় বেরিবাধের কার্যক্রম চলমান থাকলেও ইতিমধ্যেই ভয়াবহ ভাঙ্গনের দেখা দিয়েছে।
গতবছর পূর্ব নাওডোবা এলাকায় পদ্মাসেতুর ডান তীর রক্ষাবাধের পর এইবছর জাজিরার পালেরচরে শুরু হয়েছে ভাঙ্গন। বিশেষ করে গত কয়েকদিন ধরে ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হওতা বেরিবাধের স্লাব নিয়েই একের পর এক ভেঙে পড়ছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ-কেউ ভয়ে সরিয়ে নিয়েছে তাদের ঘরবাড়ি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বেরিবাধের কাজ যথাযথভাবে না করায় এই ধরনের ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে বাধের বাইরে অতিরিক্ত স্লাব ডাম্পিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, এখনও কাজ চলমান থাকায় পর্যাপ্ত স্লাব ফেলা সম্ভব হয়নি বলেই এই আকস্মিক ভাঙ্গনের দেখা দিয়েছে।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি জানান, আমরা নদীভাঙ্গন নিয়ে অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। যার ফলে, সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। যাতে করে যেকোনো ভাবেই হোক, ভাঙ্গন আটকে দিয়ে ভিটেমাটি হারানো থেকে আমরা বাঁচতে পারি।
জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান জানান, আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখার পাশাপাশি আমাদের ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যান্য সকল প্রস্তুতিই রয়েছে। পাশাপাশি শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক ইমার্জেন্সি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যার কাজ চলমান রয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী পরিচালক খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান মানহীন কাজের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, বেরিবাধের কাজ রানিং থাকায় এবং সম্পূর্ণ কাজ এখনও শেষ না হওয়ার ফলেই এই আকস্মিক ভাঙ্গনের দেখা দিয়েছে। তবে, আমরা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকায় ভাঙ্গন শুরু হওয়া মাত্রই ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৭০ মিটার এলাকাজুড়ে ইমার্জেন্সি জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে ভাঙ্গনরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।