
X
মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি
টাঙ্গাইলের মধুপুরে ঐতিহ্যবাহী জলছত্র হরিসভা মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ অক্টোবর) রাতে মন্দিরের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার, রূপার সামগ্রী, পিতল-কাঁসার পূজার সামগ্রী এবং দুটি দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে মন্দিরের নিয়মিত পূজারি উজ্জ্বল বর্মন পূজা করতে এসে দরজা ও দানবাক্সের তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে তিনি বিষয়টি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিজয় বর্মনকে জানান। খবর পেয়ে মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মন্দিরের সহসভাপতি সুদের চন্দ্র কর্মকার জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার রাত ১২টার দিকে পূজা-অর্চনা শেষে মন্দির বন্ধ করে সেবায়েত ও ভক্তরা চলে যান। সকালে এসে দেখা যায়, মন্দিরের বিভিন্ন কক্ষের তালা ভাঙা। ভেতরে থাকা গয়না ও পূজার সামগ্রী নেই। দুটি দানবাক্সও ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা।
মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দেবদাস বর্মন বলেন, রাত ১টার পর কোনো একসময় চুরির ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সঠিক সময় ও কীভাবে চোরেরা মন্দিরে প্রবেশ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মন্দিরের সভাপতি বিজয় বর্মন বলেন, হরিসভার ইতিহাসে এই প্রথম এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটল। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- পিতলের বড় গাছা ১টি, জয় ঘন্টা ১টি, পঞ্চ প্রদীপ ১টি, পিতলের প্রদীপ ৬টি, পিতলের কলসি ১টি, পিতলের থালা ২টি, স্বর্ণের টিপ/টিপল ১টি (প্রায় ৯ আনা), স্বর্ণের নোলক ২টি (প্রায় ৬ আনা), স্বর্ণের পাটা ১টি, রূপার নুপুর ১ জোড়া, পিতলের ডেসকি ৫টি, পিতলের ডিস ৮টি, কর্তাল ১ জোড়া, ১ টা সোলার ব্যাটারি এবং অন্যান্য পূজার সামগ্রী। এ ছাড়া দুটি দানবাক্স ভেঙে আনুমানিক ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে বলে দাবি মন্দির কর্তৃপক্ষের।
চুরির ঘটনায় মন্দিরের ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা চোরদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, মন্দিরে চুরির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চুরির বিষয়টি তদন্ত করছে। চুরি যাওয়া মালামালের তালিকা করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।