
X
রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কায়সার আহমেদ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। মাদক, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা জানিয়েছেন।
এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কায়সার আহমেদ। তার মতে, মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। একইভাবে অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক তরুণ অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কায়সার আহমেদ বলেন, “এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। মাদক, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস ও যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক, আইন সবার জন্য সমান।”
অপরাধ দমনের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও কাজ করছেন রামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ। স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তা প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করছেন তিনি।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মনোহরদী উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগ সভাপতি হিসেবে পরিচিত শামীমকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, শামীমকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যেই পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শামীম তার মোটরসাইকেল রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে তার ছোট ভাই এসে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
তবে শামীমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দিয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একেকজন একেক ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত ঘটনা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
শামীমকে গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কায়সার আহমেদ বলেন, “শামীমকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যেই পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাকে গ্রেপ্তার করে ছেড়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি সঠিক নয়।”
তিনি আরও বলেন, “কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে গোপনে ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে কারও কাছে তথ্য বা প্রমাণ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে পারেন।”
তিনি এলাকার সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধ সম্পর্কে তথ্য থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও জরুরি। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগ উঠলে তার সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ।