দৌলতপুরে নকল সিগারেট ফ্যাক্টরীর জব্দকৃত মালামাল নিয়ে ধোয়াশাঁ!

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযানের পর জব্দ করা মালামালের পরিমাণ এবং এজাহারে উল্লেখ করা মালামালের হিসাবে

2026-08-14T15:20:02+00:00
2026-08-14T15:20:02+00:00
শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬ ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২৬
   
দৌলতপুরে নকল সিগারেট ফ্যাক্টরীর জব্দকৃত মালামাল নিয়ে ধোয়াশাঁ!
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২০ পিএম   (ভিজিট : ১)
ছবি : প্রতিনিধি
X

ছবি : প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযানের পর জব্দ করা মালামালের পরিমাণ এবং এজাহারে উল্লেখ করা মালামালের হিসাবে বড় ফারাক দেখা গেছে। অভিযানের সময় ২০ লাখ শলাকা নকল সিগারেট ও সিগারেট তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকার মালামাল জব্দের কথা জানানো হলেও রাতে দায়ের করা মামলায় জব্দ দেখানো হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার শলাকা সিগারেট, ২৫ বস্তা তামাক যার মুল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা। এ নিয়ে এলাকাকার সচেতন মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। মামলায় গোডাউনটির মালিক হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব মাস্টারকে এক নম্বর আসামি করে শাকিল আহমেদ, লোকমান হোসেন লিয়ন, সিদ্দিক মন্ডল, সাবিনা খাতুন, জিন্নাত আলী, ইন্নাত আলী, ফারুক হোসেন ও তুশার ইমরান মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গড়বাড়িয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিব মাস্টারের গরুর খামারের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ। 

অভিযানকালে সেখান থেকে ডার্বি, নেভি ও রয়েল ব্র্যান্ডের ২০ লাখেরও বেশি শলাকা নকল সিগারেট এবং সিগারেট তৈরির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। অভিযানের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ধরা হয় ২ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা।

এদিন রাতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) পক্ষে কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন, মামলায় মাত্র ২৫ হাজার শলাকা, নকল সিগারেট ও ২৫ বস্তা সিগারেট তৈরির তামাক জব্দের কথা উল্লেখ রয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানাগেছে। যার আনুমানিক মুল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ টাকা।

বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অভিযানের সময় যদি ২০ লাখের বেশি শলাকা ও নকল সিগারেট জব্দ হয়ে থাকে, তাহলে মামলার জব্দ তালিকায় মাত্র ২৫ হাজার শলাকা উল্লেখ করা হলো কার স্বার্থে? তাছাড়া অভিযানে জব্দ সিগারেট তৈরীর মেশিন ও সরঞ্জাম গেল কোথায়। এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

এর আগে একই কারখানায় গত ৯ মে কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ ও কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তাদের যৌথ অভিযানে পাঁচটি নকল সিগারেট তৈরির মেশিন ও প্রায় এক লাখ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছিল। তারপরও আবার কিভাবে সেটি চালু করা হলো সে প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।

মামলার বাদী কাজী মর্তুজা রেজা জানান, আমরা ওই গোডাউন থেকে যে পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছি, সেটিই এজাহারে উল্লেখ করেই মামলা করেছি।

অভিযানের পর দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, ওই কারখানায় নকল সিগারেট তৈরির যে মেশিন রয়েছে, সেটির দাম প্রায় দুই কোটি টাকা। মেশিনটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে, মেশিনটি জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়নি বলে তিনি জানান। ওসি খালেদুর রহমান আরো জানান, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পক্ষে কাজী মর্তুজা রেজা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। 

মামলায় জব্দ করা মালামালের যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতেই মামলা নেওয়া হয়েছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশ জানান, অভিযানের সময় ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা যে পরিমাণ মালামালের বর্ণনা দিয়েছেন, সেই অনুযায়ীই জব্দ করা মালামাল ও এর আনুমানিক বাজারমূল্যের তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে, দুই কোটি টাকার জব্দ করা মালামাল কীভাবে তিন লাখ টাকার হলো, বিষয়টি মামলার বাদী ভালো বলতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy