প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পিএম (ভিজিট : ০)

X
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বন বিভাগের একটি ঘর ভাঙ্গাকে কেন্দ্র করে বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
রোববার বেলা দুইটার দিকে উপজেলার হলুদিয়াচালা বাজারে জনগণ ও নেতাকর্মীর সামনে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. নাজমুল আলমকে ফোন করে তিনি এ নির্দেশ দেন। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতে লাউড স্পিকারে ডিএফওকে মন্ত্রী বলেন, বন বিভাগের বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন হলুদিয়াচালায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি টিনের ঘর ছিল। রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী দালালদের মাধ্যমে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘরটি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছিলেন। পরে ঘরটি কিছুটা বড় করায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়। মন্ত্রী ডিএফওকে বলেন, ‘সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ।’
এ সময় এড. আহমেদ আযম খান আরও বলেন, ‘আমি যত দিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে হয়রানি করতে দেব না।’ মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী মুঠোফোনে বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছেন। ঘর ভাঙার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্ব দেন। তাঁরা শুধু সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাব, বন রক্ষায় কাজ করব।’ এ সময় ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের ডিএফও মো. নাজমুল আলমের ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
৯ আগস্ট ভোরে বহেড়াতৈল ইউনিয়নের হলুদিয়াচালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি করা প্রায় ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয়দের দাবি, ঘরটি যেখানে বানানো হয়েছিল, রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তাঁরা সেই জমির মালিকানা পেয়েছেন। তবে বন বিভাগের দাবি, জমিটি সংরক্ষিত বন বিভাগের আওতাভুক্ত।